বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

মিয়ানমারে অংসান সূচিকে কী অভ্যুত্থানের হুমকি দিয়েছেন সেনাপ্রধান?

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক :


রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে অংসান সূচি যে ভূমিকা নিচ্ছেন তা যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পছন্দ করছে না এটা এখন একরকম ওপেন সিক্রেট। কিন্তু থাইল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ব্যাংকক পোষ্টে শনিবার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফিরিয়ে আনার ইস্যুতে মিস সূচি এবং সেনাবাহিনীর সম্পর্ক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে।

বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ল্যারি জ্যাগানের লেখা এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা এবং নির্যাতনের তদন্ত সহ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে জাতিসংঘের সাথে যে বোঝাপড়া মিস সূচির সরকার করেছেন তা নিয়ে সেনাবাহিনী সন্দিহান। বিশেষ করে তদন্ত কমিটিতে একজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ রাখার বিষয় নিয়ে তীব্র আপত্তি করছে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ‘রেডলাইন’
ব্যাংকক পোস্টের রিপোর্টে সেনাপ্রধানের ঘনিষ্ঠ একজন সাবেক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “এটা (তদন্তে বিদেশীকে রাখা) সেনাবাহিনী কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।”

“এই রেড-লাইন অতিক্রম করা যাবেনা।”
শীর্ষ সেনা কম্যান্ডের সাথে সম্পর্কিত একাধিক সূত্র উল্লেখ করে লেখা হয়েছে – “মিস সূচি এবং জেনারেল মিন অং লেইেনর এর মধ্যে এক বৈঠকে অত্যন্ত্য ক্রুদ্ধ ছিলেন, তিনি এমনকি অভ্যুত্থানেরও হুমকি দেন। সেনাপ্রধান মিস সূচিকে বলেন, আপনি যদি সরকার চালাতে না পারেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা ফিরিয়ে নেবে।”তবে মি জ্যাগান তার রিপোর্টে লিখেছেন – সেনাপ্রধান কি পুরো দেশের ক্ষমতা নেওয়া কথা বলেছেন নাকি শুধু রাখাইনের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়।

মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী যদি মনে করে দেশে বা দেশের কোনো অঞ্চলে নিরাপত্তার হুমকি তৈরি হয়েছে, তাহলে তারা পুরো দেশের বা ঐ নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসন চালানোর অধিকার নিয়ে নিতে পারবে। ব্যাংকক পোস্ট বলছে, ঐ বৈঠকটি হঠাৎ করে শেষ হওয়ার পর – মিস সূচির বেসামরিক প্রশাসন এবং সেনাপ্রধান পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।

রাজধানী নেপিড্য তে সম্ভাব্য গণ্ডগোলের জন্য অনেক বড় বড় শহরে থেকে সেনাবাহিনীকে গুটিয়ে আনা হয়। রাখাইন ছাড়া অন্যান্য সীমান্তে অভিযানে রাশ টানা হয়।একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, যিনি সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন, তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “…সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

তবে, ব্যাংকক পোস্টে এও লেখা হয়েছে যে সুইস কূটনীতিক ক্রিস্টিন বার্গনার, যিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসাবে গত সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন, তিনি উত্তেজনা প্রশমনে করার চেষ্টা করেছেন। তার সাথে দীর্ঘ বৈঠকের পর সেনাপ্রধান রাখাইনে হত্যা-নির্যাতন তদন্তে একজন বিদেশীকে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজী হন।

সেনা অভ্যুত্থানের হুমকি প্রসঙ্গে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে, মি সূচির অফিসের মুখপাত্র জ থে বলেন, এমন হুমকির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো এই রিপোর্ট নিয়ে মুখ খোলা হয়নি।

সেনাপ্রধান ও ১২ সেনা কর্মকর্তাকে আইসিসিতে তোলার সুপারিশ সেনাবাহিনী এবং মিস সূচির বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে এই টানাপড়েনের মধ্যে গতকাল মিয়ানমার সেনাবাহিনী মং মং সো নামে একজন মেজর জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে। তিনি রাখাইনে সেনা কম্যান্ডার ছিলেন।

ওদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনিস্টে ইন্টারন্যাশনাল আজ (বুধবার) প্রকাশিত এক রিপোর্টে সেনাপ্রধান মিন অং লিয়ান এবং ১২ জন সেনা কর্মকর্তার নাম করে বলা হয়েছে- রাখাইনে এরাই পরিকল্পনা করে সহিংসতা পরিচালনা করেছেন। এই প্রথম কোনো রিপোর্টে সরাসরি নাম ধরে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হলো। অ্যামনেস্টি দাবি করেছে, এই সেনা কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১