আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
কারণ এই ঘটনার কয়েকদিন আগে একজন নারী রিপোর্টার যখন টেলিভিশনে সরাসরি খবর দিচ্ছিলেন তখন কয়েরকজন পুরুষ ফুটবলপ্রেমী তাকে চুমু দিতে চেষ্টা করলে ওই ফ্যানদের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবাদিককে চুমু খাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবোতে বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ওয়েইবোর ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলছেন: পুরুষ সমর্থকদের আচরণ নিয়ে যদি সমালোচনা হয়ে থাকে, তাহলে একই আচরণের জন্যে নারী সমর্থকদের সমালোচনা করা হবে না কেন?
“আগের ঘটনার সাথে তো এখানে একটা বৈপরীত্য চোখে পড়ছে,” বলেছেন একজন ওয়েইবো ব্যবহারকারী।আরেকজন লিখেছেন, “এটিকে কেন যৌন হয়রানি হিসেবে দেখা হবে না?” এই মন্তব্যে লাইক দিয়েছেন শত শত মানুষ। আরেকজন ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন: “যে চুমু খাচ্ছে সে যদি দেখতে খুব সুন্দর নয়, তাহলে সেটা যৌন হয়রানি হবে না।”
অনেকেই এরকম ঘটনায় ‘নারী ও পুরুষের ব্যাপারে সমান আচরণের’ আহবান জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এই ঘটনায় যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে নারী ও পুরুষের মধ্যে এখনও বৈষম্য রয়েছে।নারী ভক্তের কথা বলতে গিয়ে ‘সৌন্দযের্র’ মতো শব্দ ব্যবহারেরও সমালোচনা করছেন অনেকে।
এই চুম্বন নিয়ে চীনে বিতর্ক হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি। শুধু এমবিএন টেলিভিশন এবং তাদের সংশ্লিষ্ট কিছু সংবাদ মাধ্যমে এই খবরটি প্রচার করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন নাগরিক টুইটারে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। লিখেছেন: ‘আপনার লিঙ্গ যা-ই হোক না কেন, আপনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমবিএনের একজন সাংবাদিক বিশ্বকাপ কভার করতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে দুজন নারী তাকে যৌন হয়রানি করেছে।”
গত কয়েকমাস ধরে ওয়েইবোতে যৌন হয়রানির মতো বিষয় নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া হচ্ছে না।গত সপ্তাহে এরকম একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যার মূল কথা ছিল: ‘নারী কিম্বা পুরুষ, তরুণ কিম্বা বৃদ্ধ যে কেউই যৌন হয়রানির শিকার হতে পারেন।’ এই ভিডিওটিও সোশাল মিডিয়াতে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।