বুধবার ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুখ পেলে জনগণ দুঃখের কথা ভুলে যায় : প্রধানমন্ত্রী

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতা বিএনপির দুর্নীতি ও দুঃশাসনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতি দেশ ও জনগণকে কিছু দিতে পারেনা। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। তাই বিএনপির প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই।’ কারণ তাদের শাসনামলে অর্থাৎ ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত মানুষ হত্যা থেকে শুরু করে সীমাহীন দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চলছিল।’

শুক্রবার (২৭জুলাই) দুপুরে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যারা অতীতে লুটপাট করেছে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে আবারও তারা লুটেপুটেই খাবে এবং শুধু নিজেদের ভাগ্য গড়বে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ২০০১ -২০০৬ মেয়াদে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, বাড়ি ঘর লুটপাট এবং ২০১৩ সালে সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও এবং নির্বাচন প্রতিহত করার নামে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়ে সেই আগুনে ফেলে বিদ্যুতের ইঞ্জিনিয়ার হত্যা এবং ২৭ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে হত্যার অভিযোগ করেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাওসারও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

১৯৯৪ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠার পর আজ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৪ বছর পূর্ণ হল। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুতেই দলের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এই দিনটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সন্তান এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু করতালি এবং শ্লোগানের মাধ্যমে জয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।

শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তাঁর সরকারের সাফল্যগাঁথা ও অর্জনসমূহ জনগণের কাছে তুলে ধরে আগামী সাধারণ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘সংগঠনকে তৃণমুল পর্যায় থেকে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদেরকে শৃংখলার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বিগত সাড়ে নয় বছরে তাঁর সরকারের অর্জনগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।’

তাঁর দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জনগণকে উন্নয়নের কথাগুলো বার বার বলতে হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরতে হবে। কারণ সুখ পেলে জনগণ দুঃখের (অতীত স্মৃতি) কথা ভুলে যায়।’

১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ধানমন্ডির একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে সপরিবারে বন্দি থাকার সময় জয় জন্মগ্রহণ করেন উল্লেখ করে সে দিনের কথা অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২৭ জুলাই দিনটি আমার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে যখন বন্দি ছিলাম তখনই আমার প্রথম সন্তান জয় জন্মগ্রহণ করে। আজকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সঙ্গে জয়ের জন্মদিন এক হয়ে গেছে। এজন্য আমার দোয়া ও আশির্বাদ সকলের জন্য।’আমেরিকায় তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের পর হত্যার ষড়যন্ত্র করার জন্যও প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতৃবৃন্দকে অভিযুক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) দুর্নীতির মাধ্যমে এতটাকা বানিয়েছিল যে, আমেরিকার যে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র একজন অফিসারকে তারা কিনে ফেলল, জয়কে অপহরণ এবং হত্যা করার জন্য। যা আবার ধরা পড়লো সেই এফবিআই’র হাতে।

তিনি বলেন, বিএনপির যে নেতা এই কাজ করেছিল সে ধরা পড়ার পর তার বিচার হলো এবং সেখানে সেই নেতার শাস্তি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সেই মামলার রায়ে বেরিয়েছে- খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান এবং তথাকথিত বৃদ্ধিজীবী শফিক রেহমান অর্থ-পরামর্শ দিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, এই বিষয়ে এই দুইজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের ওপর দেশের সাধারণ মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। তারা ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি করলেও বায়তুল মোকাররমের ধর্মীয় বইয়ের দোকানে আগুন দিয়ে হাজার হাজার কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। মসজিদে ঢুকে মানুষ হত্যা করেছে। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে কলেজ ছাত্রী কেউ তাদের নির্যাতন-নৈরাজ্য থেকে রেহাই পায়নি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় খালেদা জিয়ার কারাগারে যাবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ১০ বছরেরও বেশী সময় আদালতে মামলা চললো, বিএনপির এত বাঘা বাঘা আইনজীবীরা প্রমাণে ব্যর্থ হলো যে, খালেদা জিয়া অর্থ আত্মস্যাৎ করেনি।

তিনি বলেন, আদালত তাকে জেল দিয়েছে। কাজেই আমাদের কাছে এখন মুক্তির দাবি করে লাভ কি, আমরা কিছুই করতে পারবো না।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ তাকে জেল দেয় নাই। সে রকম হলেতো ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপির সন্ত্রাস ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা যেত।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রশ্ন করে বলেন, ‘যারা এতিমের অর্থের লোভ সামলাতে পারে না তারা কীভাবে দেশ চালাবে।’

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় পুণর্ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি গ্রাম হবে শহর। গ্রামের জনগণ নগরের সব ধরনের সুযোগ- সুবিধা পাবে। যেখানে জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা করতে আগামী ২০২১-২০৪১ মেয়াদী নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, শুধু প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নয়, বাংলাদেশের জন্য আমরা শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা প্লান করেছি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১