আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকা হলো যানজটের নগরী। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, যানজটের কারণে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট জিডিপির ৭ শতাংশের সমান। বলার অপেক্ষা রাখে না, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের ওপরও যানজট বিরূপ প্রভাব ফেলে।
দেশে ট্রাফিক আইন থাকলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ নেই। এই শহরের রাজপথে যাত্রীদের আটকে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কেউ ট্রাফিক আইন মানে না। ইচ্ছেমতো গাড়ি চালায়। এই শহরেই আবার আছে নামীদামী সব হাসাপাতাল। কিন্তু যানজটের কারণে জরুরি কোনো রোগিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব!
সভ্য ও উন্নত দেশগুলোর রাজপথে আলাদা ‘ইমার্জেন্সি লেন’ থাকে। প্রচণ্ড যানজটের মধ্যেও এই লেন দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের গাড়ি যেতে পারে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও ঢাকার রাস্তায় এই দৃশ্য কেউ কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু যারা এসব ভাববেন, তাদের হাঁটুর বয়সী ছেলে-মেয়েরা ঢাকার রাজপথে ইমার্জেন্সি লেন তৈরি করে রীতিমতো অবাক করে দিয়েছে! শুধু অবাক নয় এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ইমার্জেন্সি লেন তৈরি করে ইতিহাস সৃষ্টি করল। বাংলাদেশে এমন ঘটনা আর কখনই ঘটেনি। বলছি রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় বিমানবন্দর সড়কের একটি ছবি নিয়ে।
খিলক্ষেত এলাকায় বিমানবন্দর সড়কের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অবরোধের মধ্যে লম্বা যানজটে পড়েছে প্রাইভেট গাড়িগুলো। এই ছেলে-মেয়েরা রোড ডিভাইডারের পাশে একটি আলাদা লেন তৈরি করে দিয়েছে! সেই লেন দিয়ে হুঁশ হঁশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। যানজটের কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না রোগিদের!
অবিশ্বাস্য লাগছে তাই না? অবিশ্বাস্য হলেও এটাই বাস্তবে করে দেখিয়ে দিয়েছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তারা প্রমাণ করে দিল, সামান্য সদিচ্ছা থাকলেই এই দেশকে আমরা সুন্দরতম করে গড়ে তুলতে পারি। সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করতে পারেনি, সেটাই করেছে কিশোর-কিশোরীরা। ওরা রাজপথ থেকে ঘরে ফেরার পর এই ‘ইমার্জেন্সি লেন’ কি ঠিক রাখতে পারবে সরকার?