আকাশবার্তা ডেস্ক :
সরকারকে স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, ‘শূন্য টেবিলে তো আর আলোচনা হয় না। আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকতে হবে। অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে বিরোধীদলগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।’ ‘তারা (সরকার) যদি এটা না চায় তাহলে বুঝতে হবে তাদের মন স্বচ্ছ না। তাদের মন সাদা নয়, অফ হোয়াইট (ধূসর)।’
শনিবার (১১ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
‘শর্ত ছাড়া রাজি হলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী আরও বলেন, ‘কোনো এজেন্ডা ছাড়া কোনো আলোচনা নয়, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে আলোচনা হওয়া দরকার সে আলোচনার জন্য তো আমাদের দল সব সময় প্রস্তুত। আর এ ধরনের সংলাপের ডাক তো বিএনপি সব সময়ই দিয়ে যাচ্ছে।’
বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও সমমনাদের বর্জনের মুখে দশম সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ আসনে ভোটই হয়নি। একজন মাত্র প্রার্থী থাকায় এসব আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্যরা। আর এ জন্য বিএনপি বর্তমান সরকার অনৈতিক ও অবৈধ বলে দাবি করে থাকে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন আইনগতভাবে বৈধ, যদিও সেটা পছন্দ নয় আওয়ামী লীগেরই। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাধিকবার বলেছেন, তারা এবার আর সেই ফাঁদে পড়বেন না। বিএনপি ভোটে না এলেও এবার তা অংশগ্রহণমূলক হবে।
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি সব সময় অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছে। শুধু অংশগ্রহণমূলক হলেই হবে না, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। যে নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।’ ‘এসব বিষয়ে সমাধান না হলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপিও সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।’
বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করে নির্বাচনের কথা কীভাবে হয়, সেই প্রশ্নও রাখেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ এই কমিশন নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।