আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুফ আলীর বিরুদ্ধে সালিশ বৈঠকে ধর্ষিত কিশোরী ও যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরআগে মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় হাজিরহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (এসআই) মো. হুমায়ুন বাদি হয়ে কমলনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী ও গ্রাম পুলিশ মো. রাশেদসহ ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী (মিয়া ভাই) চরমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চরমার্টিন গ্রামের হাজী রুহুল আমিনের ছেলে। অভিযুক্ত অপর আসামি মো. রাশেদ ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য। সে একই গ্রামের আবদুল হাসেমের ছেলে।
প্রসঙ্গত, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুফ আলী (মিয়া ভাই) সালিশ বৈঠকে ধর্ষিত কিশোরী ও অভিযুক্ত যুবককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের প্রায় দেড় মাস পর গত রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
এ দিকে গত ৩১ ডিসেম্বর নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। নির্যাতিত ওই দুইজন উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে শ্যালিকা-দুলাভাই।
ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা ওই ভিডিও’তে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠক চলছে। বৈঠক চলাকালে চেয়ারম্যান লাঠি নিয়ে এক যুবককে বেদম পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় ওই যুবককে এলোপাতাড়ি লাথি দিতে দেখা যায়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ১৩/১৪ বছরের ওই কিশোরীকেও একইভাবে নির্যাতন করতে দেখা যায়। চেয়ারম্যান মারধর করার আগেও বৈঠকে উপস্থিত আরো এক ব্যক্তি ওই যুবককে পেটাতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘরজামাই মো. আবদুল আলী প্রকাশ কালু (৩৫) স্ত্রীর ছোট বোনকে (শ্যালিকাকে) নিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাদের চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে শালী দুলাভাইকে বেদম পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে দুলাভাই কালুকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
চরমার্টিন ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী (মিয়া ভাই) বলেন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পেলে রেখে মাদকসেবী ওই ঘরজামাই শ্যালিকাকে পালিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খারাপ আচরণ করে তারা। যে কারণে দুই একটা চড় থাপ্পড় দিয়েছি।
স্থানীয় হাজিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (এসআই) মো. হুমায়ুন বলেন, দুলাভাই কৌশলে শালীকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম নিয়ে ধর্ষণ করেছে। মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। এ ঘটনায় কমলনগর থানায় মামলা করেছে কিশোরীর বাবা। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।