আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য সংগ্রহের সময় মিয়ানমারে গ্রেপ্তার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কাইওয়া সোয়ে ও (২৮)-এর বিরুদ্ধে মামলার রায় স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার তাদের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু যে বিচারক এ রায় দেবেন তিনি অসুস্থ থাকায় রায় পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ৩ সেপ্টেম্বর। ওই দুই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেশের অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আট মাস ধরে শুনানি চলে। তারপর সোমবার (২৭আগস্ট) এ রায় ঘোষণার দিন ধার্য হয়। কি রায় দেয়া হয় তা দেখতে এদিন সকাল থেকেই আদালতে উপস্থিত হন বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও কূটনীতিক।
কিন্তু সেই প্রক্রিয়া স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক মিনিট। যে বিচারক রায় ঘোষণা করবেন তার নাম ইয়ে লউইন। তার স্থানে উপস্থিত হন বিচারক খিন মাউং মাউং। তিনি বলেন, যে বিচারকের রায় ঘোষণা করার কথা ছিল তার শরীর ভাল না। তাই আমি ঘোষণা করছি যে, এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ৩ সেপ্টেম্বর।
এরপর বিবাদিপক্ষের আইনজীবী খিন মাউং জাওয়া সাংবাদিকদের বলেন, রায় ঘোষণাকারীর পক্ষে এ ঘোষণা দিয়েছেন যে বিচারক তিনি বলেছেন, রায় প্রস্তুত। তবে তা ঘোষণা করতে মূল বিচারককে লাগবে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে গণতন্ত্র কতটা এগিয়েছে তারই একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এ মামলাটিকে।
ওদিকে আদালতে নেওয়ার সময়ও এ দুই সাংবাদিক ছিলেন হ্যান্ডকাফ পরা। এ অবস্থায়ই ওয়া লোনের মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় আঙ্গুল উচিয়ে থাম্ব-আপ দেন। তার পিছনে ছিলেন সাংবাদিক কাইওয়া সোয়ে ও। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে ওয়া লোন সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা মোটেও ভীত বা শঙ্কিত নই। সত্য আমাদের পক্ষে আছে। পরিস্থিতি যা-ই হোক আমরা সন্ত্রস্ত হবো না। তারা আমাদেরকে দুর্বল করতে পারবে না।
রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ডকুমেন্ট সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় ইয়াঙ্গুনের একটি রেস্তোরাঁ থেকে। তারা আদালতে বলেছেন, এরপর তাদেরকে কিছু কাগজ ধরিয়ে দেয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
ওই রেস্তোরাঁয় ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ সদস্য মনে করেন, ওটা ছিল সাংবাদিকদের ফাঁদে ফেলার একটি ব্যবস্থা। এর মধ্য দিয়ে তারা যাতে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা নিয়ে রিপোর্ট করতে না পারেন সেজন্য তাদেরকে শাস্তি দিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যে নৃশংস নির্যাতন শুরু করে তার পর নেত্রী অং সান সুচির প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তীব্র থেকে তীব্র হয়। ওই সময়েই এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সির হিসাবমতে, নির্যাতনের ফলে কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হন। ওই সময়ে ১০ রোহিঙ্গা হত্যার তদন্ত করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। এক পর্যায়ে ১২ই ডিসেম্বর তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ