আকাশবার্তা ডেস্ক :
মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে পাবনায় এক নারী সাংবাদিককে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। জেলার রাধানগরে তার বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করা হয়। নিহতের নাম সুবর্ণা আক্তার নদী (৩২)। সে আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক। তার ৫/৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সুবর্ণা নদী রাধানগরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মঙ্গলবার কাজ শেষে রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছে পৌঁছালে ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় চিৎকার শুনে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে চিকিৎসক সুবর্ণাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, পাবনা পৌর সদরের রাধানগর মহল্লায় আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের সামনে বাসার কলিং বেল টিপে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সুবর্নার গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে তাকে অতর্কিত এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। তারা সুবর্ণার হাতে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি।
এদিকে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টায় বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর এক বিবৃতিতে সাংবাদিক সুবর্না নদী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনেরও হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে ৩৯ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন।
কিন্তু এর মধ্যে বেশিরভাগ সাংবাদিক হত্যারই বিচার হয়নি। আন্দোলনের মাধ্যমে বিচার করে সাংবাদিক হত্যার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবিলম্বে সরকারকে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে একটি যুগোপযোগি আইন প্রণয়নসহ বিএমএসএফ ঘোষিত ১৪ দফা দাবি মেনে নেয়ারও দাবি করা হয়।