আকাশবার্তা ডেস্ক :
বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার বিষয়টিকে ‘নির্মম বাস্তবতা’ হিসেবে উল্লেখ করে আসল বিএনপির নেতা কামরুল ইসলাম নাসিম বলেছেন, ‘এটা প্রকৃতির বিচার। শেখ হাসিনা সরকার উছিলা মাত্র। বিচার বিভাগ উছিলা মাত্র।’ তারেক রহমানের সমালোচনা করে আসল বিএনপির নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান কেন বলে না যে, হাসিনা আন্টি আমি দেশে আসছি। আমাকে কারাগারে রাখেন কিন্তু আমার মাকে ছেড়ে দিন। এ কেমন ছেলে!’
শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখাও দেন।
তারেক রহমানের কথায় নাশকতা করা যাবে না জানিয়ে ‘আসল বিএনপি’র নেতা বলেন, ‘অনেক সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে না আসেন তবে দল নিয়ে তাঁর না ভাবলেও চলবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মা’ সম্বোধন করে ‘জেদ কমিয়ে’ রাজনীতি ছেড়ে বিশ্রামে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়ে সাড়ে তিন বছর আগে সক্রিয় হওয়া ‘আসল বিএনপি’র নেতা কামরুল ইসলাম নাসিম।
বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে নাসিম বলেন, ‘আপনি ক্ষমা চান স্রষ্টার কাছে। বই পড়ুন, নামাজ পড়ুন আর বিশ্রাম নিন। আর জেদ কমিয়ে শারীরিক চেকআপটা সরকার যে হাসপাতালে দিতে চায়, সেখানেই আপনি যাবেন।’
‘মা বেগম জিয়ার জন্য বলছি, আপনি ৬০ থেকে ৭০টা আসন নিয়ে বিরোধী দলে যাওয়ার চিন্তা করবেন না। আপনার এমন চিন্তা হতে দূরে সরে আসুন। শহীদ জিয়া ফাইটার ছিলেন। বিএনপি ফাইট করবে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে। খবরদার জেলে থেকে ৬০ থেকে ৭০ টা আসন নিয়ে বিএনপিকে ক্রমান্বয়ে অস্তিত্বহীন করার উদ্যোগে অযাচিত সিদ্ধান্ত নেবেন না।’
নাসিম বলেন, ‘মা বেগম জিয়া দুষ্টু হলেও মা তো মা-ই-ই। তাঁকে বিশ্রাম দেয়া হোক। দল গণতান্ত্রিক উপায়ে চলবে। আমরা জাতীয় নির্বাচনের পরে ক্রেডিবল কাউন্সিল করব। দল চলবে জিয়া-যাদু মিয়ার চুক্তির আলোকে ও আদর্শে অনুরণিত থেকে। রাজনৈতিক দর্শন রেখে আমরা বিএনপিকে জনস্বার্থ সংরক্ষণের দল করব।’
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকার পতনের আন্দোলনের মধ্যে ‘আসল বিএনপি’ নাম নিয়ে সক্রিয় হন কামরুল ইসলাম নাসিম। তিনি দিন তারিখ জানিয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় দখলেরও ঘোষণা দেন। তবে একাধিকবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে ‘আসল বিএনপি’।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে ২০১৫ সালের সেই এই উদ্যোগ নেয়ার কারণ জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘স্রষ্টা আমাকে বলেছিল, যা, দলটাকে জাতীয়তাবাদী করার উদ্যোগে নেমে পড়।’
‘টানা ৯২ দিনের হরতাল-অবরোধের সময়টাতেই আমি নতুন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। জ্যেষ্ঠদের সাথে আলোচনা করে। যখন ওই সময়টায় সরকার পতন হয়ে যাচ্ছে বলে দিবা স্বপ্নে ঘোরের মধ্যে ছিল দুষ্টু জামায়াতেবাদী বলয়।’
দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পাঁচটি অসুখ সারাতে বিএনপি পুনর্গঠনের কাজে রয়েছেন জানিয়ে নাসিম বলেন, তিনি দল ভাঙেননি। দল ভাঙার ইচ্ছা থাকলে একটা ‘সমিতি’ খুলে শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হতেন। তিনি বলেন, দল ভেঙেছেন বি চৌধুরী, নাজমুল হুদারা। এখন অভিনব নানা মতলব করছেন তারা।
নাসিমের দাবি, তিনি যে দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়ে আগাচ্ছেন, তা মেনে নিয়েছেন বিএনপির নেতারাও। দলের নেতৃত্ব তারেক রহমান নয়, খালেদা জিয়া বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছেও নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানেও সুগভীর চিন্তাশক্তি দিয়ে ভাবুন। আমার কাছেই দল। আমার কাছেই সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী শক্তি। এই আমার থেকে এখন আমাদের হতে হবে। মুক্তি পাবে দলীয় গণতন্ত্র।’
আগামী নির্বাচনে নাসিমের নেতৃত্বে অংশ নিতে বিএনপির ৩২০ জন নেতা প্রস্তুত দাবি করে নাসিম দাবি করেন, ক্ষমতায় যেতে ফেভারিট তারাই। মহাসমাবেশের মাধ্যমে এই ৩২০ জন নেতাকে একযোগে দেখা যাবে বলেও জানান তিনি।
প্রার্থী বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে নির্বাচনের লড়াই করতে হলে দলীয় মনোনয়নে সতর্ক থাকবেন। আমরা ভোটযুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ চাই।’ রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেয়ার, সংসদে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘আমার সাংস্কৃতিক জীবন রয়েছে। সেটা নিয়েই থাকতে চাই।’
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা আমার সাথে বসুন। জামায়াত ও দুষ্টু দলগুলো ছাড়ুন। তারেক রহমানকে স্যারেন্ডার করতে বলুন, আর মা বেগম জিয়াকে বিশ্রাম দেওয়া হোক।” বিএনপি ইতোমধ্যে বলেছে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না, হতেও দেবে না।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর লন্ডনে থাকা জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে বিএনপি। তার পরামর্শে বিএনপি চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অচেনা নাসিম কয়েক বছর আগে ‘আসল বিএনপি’ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠার পর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, খালেদা জিয়ার দলকে ভাঙতে এটা ‘সরকারের চক্রান্ত’।