আকাশবার্তা ডেস্ক :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের পল্লীতে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকালে উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের হরিভল্লবপুর গ্রামের ঠাকুর বাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম বিউটি আক্তার (২৫)। ওইদিন সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী মর্গে প্রেরণ করেছে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ। বিউটি আক্তার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের আব্দুর রবের মেয়ে।
এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই মো. বাবলু বাদি হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় ৪ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামিরা হলো, নিহত বিউটির স্বামী বাহার উল্যা, তার ভাইয়ের স্ত্রী মারজাহান, শ্বশুর কালামিয়া ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়। নিহত বিউটি আক্তারের ৬ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, তার নাম আরাফাত ইসলাম বাপ্পী।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদি মো. বাবলু জানায়, ৭ বছর আগে বাহার উল্যার সাথে আমার বোন বিউটির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে তার বাড়িতে থাকার বসতঘরটি সম্পর্ণ আমাদের খরচে করে দিয়েছি। এরপরও বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য আমার বোনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বাবলু জানায়, তার ভগ্নিপতির স্বভাব-চরিত্র খারাপ। রাতে বিভিন্নস্থানে তাস-জুয়া খেলে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে। এতে আমার বোন তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হতো। বাবলু আরো জানায়, ঘটনারদিন বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক আনার জন্য আমার বোনকে চাপ দেওয়া হয়। এতে আমার বোন অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্বামী বাহার উল্যা, ভাইর বউ মারজাহানসহ শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে আমার বোনকে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজিদুর রহমান জানান, নিহত গৃহবধূর ভাই ৪ জনকে বিবাদি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।