বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

২টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী

বাসস :


রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির জন্য অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ প্রদান করা হয়েছে।

বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রধানমন্ত্রীকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ‘২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননা প্রদান করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৃথক দু’টি অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি এখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষ ৮’এ অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সম্বর্ধনায় ডাইরেক্টর জেনারেল অব ইন্টারন্যাশাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন অ্যাম্বাসেডর উইলিয়াম লুসি সুইং’র কাছ থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

এতে কো-অডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি মার্ক লোকক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক কানাডার মন্ত্রী মারী-ক্লাউড বিবেউ বক্তৃতা করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইপিএস ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক ফারহানা হক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড ডিনারে সংস্থাটির অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকেভা ২০১৮ স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণকারী অপর ৩ বিশ্ব নেতা হচ্ছেন নাইজারের প্রেসিডেন্ট মাহমাদু ইসুফি, তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট রেজী কেইড এসেবসি ও গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী এলেক্স সিপ্রাস।

পদক গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের আশ্রয়ে হৃদয় ও ঘরবাড়ী উন্মুক্তকারী আমার দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে এই সম্মাননা উৎসর্গ করছি। এই মহতী অনুষ্ঠানে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন যার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সার্বভৌম ও স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি বিশ্বের নিপীড়িত ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন সকল দায়িত্বশীল জাতির দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব সম্পদ থেকে প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি।

এছাড়া আবাসন গড়ে তোলা ও ভূমি উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে এই সংকটের উৎস ভূমি হচ্ছে মিয়ানমার। এ জন্য এর সমাধান মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ, মর্যাদপূর্ণ ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও পুনঃএকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুস্পষ্ট দায়িত্ব হচ্ছে যে সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারেই এই সমস্যার সমাধান করা এবং আরো বিতাড়ন বন্ধে দেশটির সরকারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করা। এছাড়া এক্ষেত্রে জবাবদিহিতার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মিয়ানমারে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। সে সময় আমি এবং আমার পরিবার ঢাকায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলাম। ওই বন্দীদশার মধ্যে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা, তিন ভাই এবং এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ভাইয়ের বয়স ছিল ১০ বছর, ভাবী ও চাচার নৃশংস হত্যাকান্ডের পর আমাকে ৬ বছর দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতার অঙ্গনে অনেক অবদানের জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে সম্মানিত করার জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ও এর অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি যে কারণে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি তা কখনো আশা করিনি। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নির্মম নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন।

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের প্রতি তাদের চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী অন্যান্য সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১