বিশেষ প্রতিবেদন –
সময় নেই কারো জন্যই কারো কাছে, কিন্তু সময় আছে আমার কাছে অফুরন্ত। সময়, শুধু সময় নয়? অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা সবসময় ঘিরে রাখে আমাকে! দুঃখ বেদনা অসহায়ত্ব এখন কিছুই আর ঘায়েল করতে পারেনা আমাকে! বিবেকের তাড়নায় মনের বিরুদ্ধে অনেক কিছুই করে ফেলি। আজকাল ভালো লাগেনা কিছুই। কত কথা কত প্রশ্ন মনের ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু উত্তর খুঁজে পাইনা। অসহ্য বেমানান! শুধুই সময়ের অপেক্ষা! কেন? কীসের জন্য? কিছুই জানিনা। এও এক ধরনের ভালোলাগা! বেঁচে থাকতে সহায়তা করে।
অনেক সময়! ছোট ছোট জিনিসগুলোতে রাগ, অভিমান কাজ করে” হয়তো জীবনের গতি প্রকৃতি এমনই হয়। তাড়াহুড়োর বাজারে নাকী মূলামূলি চলেনা। আমার তাড়া আছে ভাই, যেতে হবে বহুদূর। এ সময় দোকানদারও নাকী সুযোগ খুঁজেন। নয়, ছয় সতের আপনি দুই টাকা কম দেন। বেচারা কাস্টমার দুই টাকা ছাড়ের কথা শুনে তাড়াহুড়ো করে পনর টাকা দিয়েই চলে গেলো!
দেনার ভারে ন্যুয়ে পড়লেও আমার বিবেক ধ্বংসে না। দিনে দিনে আমার বেড়েছে অনেক দেনা, শোধিতে হবে নেই সেই চেতনা। হুঙ্কার দিয়ে কী দেনা শোধ হবে? তবুও চলে আমার ব্যর্থ চেষ্টা। কেউ কী আমার কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে?
বেলা শেষে আর খেলা হয়না। তোরা কে কোথায় জলদি আয়, সাঁজ হয়েছে বাড়ি যেতে হবে যে! শেষ বেলায় আর গোল দেয়া যাবেনা।
আমাদের দেশে কখনও কখনও জুজুর ভয় দেখিয়ে কার্য হাসিলের অভ্যাস খুব পুরনো। জুজু অর্থ-সাধারণত কল্পনাপ্রসূত ভয় জাগানো। বিশেষ করে শিশুদের বেলায় বয়োজৈষ্ঠ্যরা এমনটা করে থাকেন।
ছোট বেলায় মা’ বলতো, সুজারে বুঝায় কীদি? আঁডিয়া কেলার জোগাদি। আজকাল সমাজে সুজাদের বড়ই অভাব। এখানে যে অর্থে সুজা নামটি ব্যবহার হয়েছে, তা হলো-বোকা। বাপুরাম! আমি কী এতই বোকা?
শুনেছি; বাঘের বাঘদাবি থাকে বার বছর, চোখের লালী থাকে আরো বার বছর। বাঘদাবি কেটে গেছে সেই অনেক আগে, এখন শুধু চোখ লালীটা কেটে যাবার অপেক্ষা যত। আত্ম সমালোচনা বা আত্ম উপলব্ধি না থাকলে অন্যকে খেদিয়ে লাভ কী? লাইনচ্যুত ট্রেন লাইনে উঠানোর জন্য সমাজে কেউ না কেউ কাজ করবেই। এটাকে যারা বিরোধীতা মনে করেন, তারা আহাম্মক।
কারো উপকার করতে ক্ষমতা ও যোগ্যতা লাগে। উপকার সবাই করতে পারেনা। কিন্তু ক্ষতি করার জন্য ক্ষমতা লাগেনা। সমাজের একেবারে নগন্য মানুষটিও ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট। তাই ক্ষতি করার ক্ষেত্রে গর্বের কিছু নেই। আমি একজন নগন্য কলম সৈনিক। আর একটি কলম এক লক্ষ বেয়নেটের চেয়েও শক্তিশালী।
কারো বিরুদ্ধে আমার স্বার্থের জেলাছি নেই। সমাজ সংস্কার নিয়ে কাজ করাই আমার লক্ষ্য। কারো জীবন হুমকির সম্মুখিন করা আমার লক্ষ্য নয়। আমি কারো প্রতিপক্ষও নই। আমার লক্ষ্য ক্ষুদ্র পরিসর থেকে সমাজে সুস্থ্য ধারার অনুশীলন করা। এখানে কেউ কারো প্রতিপক্ষ থাকবে না। শান্তির জনপদ হিসাবে বাসযোগ্য একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আমার লক্ষ্য।
একাজে যদি কখনও জীবন উৎসর্গ করার উপক্রম হয়, তাহলে স্রষ্টার ইচ্ছা বলেই ধরে নিব। কারণ, আমরা যার সৃষ্টি তাঁর ইচ্ছার বাইরে যাবার কারো সাধ্য নেই।
মো. আলী হোসেন, সাংবাদিক ও লেখক
ahossain640@gmail.com