আকাশবার্তা ডেস্ক :
একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ লুৎফুজ্জামান বাবর- আবদুস সালাম পিন্টুর সাজা হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এ মামলায় আসমি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি বলেন, তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে ফিরে আসবেন তখন আমরা অবশ্যই এ মামলায় আপিল করব। তারেক রহমান নির্দোষ হবে।’
বুধবার (১০ অক্টোবর) এ মামলার রায়ে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকী ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
রায়ের পর সাংবাদিকদের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বিএনপির যেসব নেতাদের আসামি করা হয়েছে তারা কেউ এ হামলায় জড়িত নয়। আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে কোনও সাক্ষী এসে এ মামলার সাক্ষ্য দেয় নাই। তারা সেখানে বসে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছে, তার কোনো সাক্ষী নাই। এ মামলায় আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।
তিনি আরো বলেন, মুফতি হান্নান রিমান্ডে যে জবানবন্দি দিয়েছেন সে জবানবন্দি তিনি প্রত্যাহার করে বলেছেন, তারেক রহমান বা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার কোনদিন দেখাই হয়নি। অথচ আজকে অন্যায়ভাবে, বেআইনিভাবে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আবদুস সালাম পিন্টুসহ বিএপির বহু নেতাকে এ মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এ মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতারা খালাস পাবেন। আপনারা মনে রাখবেন, এ মামলায় বিএনপির আমলে যে চার্জশিট দিয়ে তদন্ত করেছে সেই তদন্তের ভিত্তিতে মুফতি হান্নান এবং অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করেছে। সেই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলার সাক্ষী হয়েছে। তারেক রহমান কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করেছেন, গোপন বৈঠক করেছেন এমন কোনো সাক্ষী নাই।
অথচ তাকে আজকে অন্যায়ভাবে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, হারিস চৌধুরীসহ আমাদের তারেক রহমান কোনো অন্যায় করে নাই। তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করার জন্য, আইনের শাসনের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন এবং আরও করে যাবেন।
অপর এক প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া বলেন, ‘এটায় ১৯ জনের ফাঁসি হয়েছে, এখানে তারেক রহমানসহ বিএনপির যেসব নেতাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। হাওয়া ভবন এবং আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে কোনো সাক্ষী এসে এই মামলায় সাক্ষ্য দেয় নাই। তারা ওইখানে বইসা গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছে, এটার কোনো সাক্ষী নাই। আমরা ন্যায়বিচার পাই নাই।’
সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, এই মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা খালাস হবেন। এবং আপনারা মনে রাখবেন, এই মামলায় বিএনপির আমলে যে তদন্ত করেছে, সেই তদন্তের ভিত্তিতেই মুফতি আবদুল হান্নান এবং অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতেই এই মামলার সাক্ষী হয়েছে। কোনো সাক্ষী বলে নাই, তারেক রহমান কোনো ধরনের ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে, কোনো গোপন বৈঠক করেছে, অথচ তাঁকে আজকে অন্যায়ভাবে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার পাই নাই।’
আইনজীবী আরো বলেন, ‘লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, হারিছ চৌধুরী, তারেক রহমান কোনো অন্যায় করেন নাই। এই দেশে, এই দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করার জন্য, আইনের শাসনের জন্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য তারেক রহমান আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছে, আরো করে যাবেন।’
পরে প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ন্যায়বিচার এখানে তারেক রহমান পাননি। এবং যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও ন্যায়বিচার পাননি। এই সাজা দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। আমরা আপিল করব। আপিলে ইনশাআল্লাহ সর্বোচ্চ আদালতে আমরা খালাস পাব।’
প্রসঙ্গত, এনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান।
তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তাঁর শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।