আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হাজেরা (২৮) নামের আশ্রিত এক নারীর লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হত্যা না আত্মহত্যা এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা একটি মহল হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে ফেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই করইতলা বাজার সংলগ্ন আলী খলিফা মিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে লাশটি দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে সকালে উপজেলার চররলেন্স ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মোস্তফা কোম্পানী বাড়ির সুরু একটি আম গাছের সাথে চিকন রশি দিয়ে বাঁধা বসা অবস্থায় ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত হাজেরার নাম ছাড়া বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। কিছুদিন আগে ওই এলাকার মৃত মোস্তফা কোম্পানীর স্ত্রী রহিমা সুলতানা বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাজেরাকে আশ্রয় দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘরের দক্ষিণে টিউবওয়েলের পাশে ছোট একটি আমের চারা রয়েছে। গাছের ধারণ ক্ষমতাহীন সরু একটি ডালে চিকন রশি গলায় পেঁছানো অবস্থায় টিউবওয়েলের সিঁড়িতে বসা অবস্থায় রয়েছে মৃতদেহটি। এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রা এটিকে আত্মহত্যা মানতে রাজি নয়।
আশ্রয়দাতা রহিমা সুলতানা জানান, ১৮/২০ দিন আগে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হাজেরা বেগম নামে ওই নারী তার বাড়িতে আসেন। এরপর তিনি বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে তাকে বসবাস করার ব্যবস্থা করেন। বাড়ি আশপাশের লোকজনও তাকে সাহায্য করতো। মঙ্গলবার সকালে তার লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
চরলরেন্স ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম নুরুল আমিন মাস্টার বলেন, বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তার আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের অনুমতি নিয়ে স্থানীয়া লাশ দাফন করে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা মনে হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া কেন দাফন করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেওয়ায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।