আকাশবার্তা ডেস্ক :
নির্যাতন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সনাক্ত হওয়া পাঁচ হাজারের মধ্যে প্রথমধাপে দুই হাজার রোহিঙ্গা নাগরিককে ফেরত নেবে মিয়ানমার। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।
বুধবার (৩১ অক্টোবর) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো।
প্রত্যাবাসন বিষয়ে রোহিঙ্গাদের মাঠ পর্যায়ের অবস্থা জানতে সকালে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ – মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রায় ৩০ সদস্যর প্রতিনিধি দল।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গা নাগরিকের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রথম দুই হাজার প্রথম দফায় মিয়ানমারে ফিরবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মিয়ানমারের নাগরিক এইসব রোহিঙ্গাদের সেদেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় গত ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রথম তালিকায় ১৬৭৩টি পরিবারের ৮ হাজার ২ জন রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই তালিকা যাচাই করে মিয়ানমার তাদের স্বীকার করে নিয়েছে বলে গত ১৫ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
চুক্তি করার সময় দুই বছরের মধ্যে ৭ লাখের মত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য ঠিক করা হলেও মাত্র আট হাজারের প্রথম তালিকা যাচাই করতেই মিয়ানমার সরকার সময় নিয়েছে প্রায় নয় মাস। গত কয়েক দশকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিলিয়ে মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ নাগরিক বাংলাদেশে থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী আপাতত শুধু নতুন আসা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গতবছর অগাস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের কক্সবাজারের কয়েকটি কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ