বৃহস্পতিবার ৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিহত করবে তৃণমূল আ.লীগ

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষেরদিকে দেশে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল মাথাচারা দিয়ে উঠছে। বিশেষ করে সাবেক আওয়ামী লীগ এবং সাবেক বিএনপির দলছুট নেতাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইতোমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গণভবনে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সংলাপ করেছেন।
সংলাপে প্রধানমন্ত্রী তাদের পরিষ্কার বলে দিয়েছেন সভা, সমাবেশ ও মতপ্রকাশে কোনো বাধা দেয়া হবে না। তবে কেউ যেন রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ না করেন। অন্যদিকে, সংলাপে বিশেষ কোনো সমাধান আসেনি বলে জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তারা বলেছেন- সংলাপে আমরা সন্তুষ্ট নই, ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন কর্মসূচি চলবে। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের এমন ঘোষণায় পাল্টা অবস্থান নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। শুধু কেন্দ্র নয়, তৃণমূলপর্যায় হতে ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন প্রতিহত করবে দলটি।
তৃণমূল নেতারা বলছে, শুধু সাত দফার নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইলে তাদের মাঠপর্যায়ে মোকাবিলা করা হবে। সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এর মধ্যে কূটনীতিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নবগঠিত দলটির নেতাকর্মীরা। সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করেন দলটি।
সেখানে একটি জনসভা করেন তারা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সংসদ বাতিলের মতো দাবি করেন নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এবং সেই জনসভায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে আগামীতে দাবি আদায় না হলে কঠিন আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। সেই লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গণভবনে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সংলাপ করেছেন।
সংলাপ থেকে বের হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও শেষে গাড়িতে বসেই একটুকরো মন্তব্য করেন। বলেন, ‘আমি সন্তুষ্ট নই। তবে এখন ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী নবগঠিত ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া ৭ দফাসহ যেসব দাবি তারা করেছে সেগুলো নিয়ে ভাবছে না। ক্ষমতাসীনরা মনে করছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করার জন্য নতুন ষড়যন্ত্র করছে কিছু নীতিহীন নেতা। তাই এসব নেতার দেওয়া সকল কর্মসূচি মাঠে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ আমার সংবাদকে বলেন, আজ যারা ঐক্যফ্রন্ট নাম দিয়ে যে সংগঠন করছে সেইসব নেতা এককভাবে নির্বাচন করলে কোনো দিন জয়লাভ করতে পারবে না। তারা নিজেদের আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে ওখানে এক হয়েছে।তিনি বলেন, যারা এ ঐক্যফ্রন্টে আজ নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা সবাই রাজনৈতিক দেউলিয়া। তারা যদি একাদশ জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার জন্য চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ বসে থাকবে না। তাদের প্রতিহত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। যাতে সাধারণ মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে।
আমরা মাঠে থাকবো, তাদের মাঠে প্রতিহত করবো। মাঠ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দখলে থাকবে। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. সদর উদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষ এখন নির্বাচনমুখি। এ নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিএনপি-জামাত মিলিত হয়ে যে ঐক্যফ্রন্টের নামে সংগঠন হয়েছে তারা যদি বিগত সময়ের মতো পেট্রোল নিক্ষেপ, বোমাবাজি, মানুষ পোড়ানো, আগুন সন্ত্রাস, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের নাশকতা তৈরি করতে চায় তা হলে শহর থেকে শুরু করে গ্রাম প্রর্যন্ত আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তাদের মাঠে প্রতিহত করবে।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর থেকেই মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কাজ করছে। আর বিএনপির এমন কোনো অবস্থান নাই যে, তারা আন্দোলন করবে। বিএনপি-জামায়াত যদি আন্দোলন করতে আসে দেশের জনগণ সাড়া দেবে না, তাদের প্রতিহত করবে। সাধারণ মানুষ চায় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসুক। বর্তমানে আমাদের জেলা আওয়ামী লীগের ভিত্তি অনেক শক্ত।যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন আমার সংবাদকে বলেন, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছিল, পারেনি।
সে সময়ের আওয়ামী লীগ থেকে এখনকার আওয়ামী লীগ অনেক সুসংগঠিত। তখন তারা ব্যর্থ হয়েছে এখন তারা কী আন্দোলন করবে। তিনি বলেন, এই দেশে কোনো ধরনের আন্দোলন করার ক্ষমতা তাদের নাই। আর যদি তারা কোনো ধরনের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকা- করতে চায় তাহলে আমরা জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শক্তহাতে প্রতিহত করবো।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান ফারুক বলেন, আমাদের এখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো ধরনের আন্দোলন করতে পারবে না। তাদের আন্দোলন সাথে এ এলাকার মানুষ থাকবে না। তাদের কথা মানবে না দেশের জনগণ। জনগণ এখন ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই আমরা সবাই শেখ হাসিনার নৌকার জয় উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট দিয়ে লাভ নেই জয় আমাদের সু-নিশ্চিত। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক বলেন, আমার জেলায় প্রতিটি উপজেলার ওয়ার্ড ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি করার মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে তা আমরা সবাই একসাথে মাঠে নেমে প্রতিহত করবো। এর জন্য আমরা জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী প্রস্তুত।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১