বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

বিএনপির আন্দোলন শক্তি চায় মান্না, মতের অমিল আসিফ-মওদুদের

আকাশবার্তা ডেস্ক :


রোববারের (০৪ নভেম্বর) ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকটা ছিল একটু ভিন্ন। যদিও বিএনপির স্থায়ি কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শীর্ষ কয়েকজন আসতে পারেন নি। তবে রুদ্ধদ্বার দীর্ঘ বৈঠকে অংশ নেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল এবং আইনজীবী বোরহান উদ্দিন। ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার সাংবিধানিক ও আইনগত দিক নিয়ে বৈঠকে বিশ্লেষণ করা হয়। গঠিত হয়, সীমিত পরিসরে একটি কমিটিও। দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে শাহদীন মালিক এবং আসিফ নজরুল থাকবেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের মত।

তবে প্রথম বৈঠকেই আসিফ নজরুলের সঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের মতে অমিল দেখা দেয়। দুই-একটি বিষয় নিয়ে আসিফ নজরুলের যুক্তির সঙ্গে বড় ধরণের অমিল হলে এক পর্যায়ে আসিফ নজরুল মওদুদ আহমেদের উপর রাগ করে বৈঠক থেকে বের হয়ে যান। পরে মাহমুদুর রহমান মান্না এসে দরজা থেকে ফের আসিফ নজরুলকে ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় ডা. জাফরুল্লাহ আসিফ নজরুলকে শান্তনা দেন এবং যুক্তি চালিয়ে যেতে বলেন।

বৈঠকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বিষয়বস্তু নির্ধারণ, জনসভায় কর্মসূচির ঘোষণা এবং তফসিল পেছানোর আহবানে করণীয় নির্ধারণ এবং সাত দফার আইনি দিক গুলো বিশ্লেষণ নিয়ে চলে এ বৈঠক। শুরুতেই প্রথম সংলাপের ভুল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন আসিফ নজরুল।

সেখানে তিনি দাবী তুলেন, সংলাপে যাওয়ার আগে খাবার খাওয়া না খাওয়ার শর্ত দেয়াটি কোনো ভাবেই যুক্তিযুক্ত হয়নি। এর ফলে সংলাপের মূল বিষয়টা অন্যদিকে চলে গেছে।সাত দফা দাবি বিএনপি মহাসচিবের মাধ্যমে উপস্থাপন করাটাও ঠিক হয়নি। এটি যদি ড. কামাল হোসেন উপস্থাপন করতেন তাহলে অর্থবহ সংলাপের জন্য অনেক ভালো হতো। সংলাপে কামাল হোসেনের মাধ্যমে সাত দফা দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করা এবং মহাসচিবের পাঠ অনেক ফারাক রয়েছে। এটি বড় ধরণের ভুল ছিলো। সবাই কথা না বলে একজনে বলাটাই উচিৎ ছিলো। এজন্য তিনি উপস্থাপন করেন, সামনের সংলাপে শুধু একজন কথা বলবেন; অন্যরা নোট দেবেন সংশ্লিষ্ট যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে সংলাপ ফলপ্রসু হবে। বৈঠকের পরামর্শগুলো খন্ডন করেন মওদুদ আহমেদ। সূত্রের দাবী, এ নিয়ে মওদুদ আহমেদের সঙ্গে বড় ধরণের মতের অমিল হয়েছে আসিফ নজরুলের সঙ্গে।

এদিকে বৈঠকে উপস্থিত থাকা সূত্রমতে, বিএনপির আন্দোলন শক্তি চায় মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বৈঠকে দাবি তুলে বলেন, বিএনপির আন্দোলনের মাঠ আছে, বড় আন্দোলনের লোক আছে। আন্দোলন চাঙ্গা করার সব কিছুই আছে। নেতাকর্মীরাও ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন, আন্দোলন চাওয়া এবং দাবি এখন এদেশের সবার। আর এ কাজটি এখন বিএনপিকেই করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া এ সরকার থেকে কোনো ধরণের দাবী আদায় করায়ও সম্ভব নয় বলে বৈঠকে মত দেন মান্না।

মওদুদের চেম্বারে হওয়া স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাফর উল্লাহ চৌধুরী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, আবদুল মালেক রতন প্রমুখ।

বৈঠক শুরু হওয়ার আগে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, সংসদ ভেঙে দেয়ার কথা সংবিধানে লেখা আছে। আমি হিসেব করে নিয়ে আসছি প্রায় দশ জায়গায় বলা আছে। অতএব এটা তো কোন অস্বাভাবিক কিছু না। আমাদের বেশিরভাগ নির্বাচন সংসদ ভেঙে দিয়ে হয়েছে। সব জায়গায় সাংবিধানিক প্রথা হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন। কখন, কোথায় কোন জায়গায়; কোন সময় সংসদ ভেঙে দিতে হবে তা দশ জায়গায় বলা আছে।

শাহদীন মালিক বলেন, সংসদ রেখে নির্বাচন করা যায় এটা হলো সংবিধানের একটি বিকল্প। আমাদের সংবিধানে আছে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা। সংসদের ক্ষমতা মুলতবি বিলুপ্তি সংবিধানে নেই। সংসদ বহাল থাকবে, নয়তো ভেঙে দিতে হবে। আমি একজন আইনজীবী আইনের ব্যাপারে বর্তমান সরকার অতীতের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরাও আমার কাছে উপদেশ পরামর্শ চেয়েছে। আমি পথ খুঁজে দিয়েছি। কিন্তু এর সমাধান রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সমঝোতার মাধ্যমে নিয়েছে। এটা তাদের ব্যাপার।

সমাধান খোঁজার উদ্দেশ্যে আজ আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করব। একটাই বড় দাবি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন। সবাই যেটা বলছে লেভেল প্লেইং বড় প্রদক্ষেপ হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার ব্যবস্থা আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট করে আছে। আরও কি কি দাবির প্রেক্ষিতে অন্যগুলো খুঁজে বের করা যায় আমরা দেখব। রাজনৈতিকদের সদিচ্ছার উভয়পক্ষের একমত হয় নাগরিকদের ভোটের অধিকার ভোটের ফলাফলের অধিকার নিশ্চিত সম্ভাব্য সমাধানের উপায়গুলো বের করব। এ ব্যাপারে আইনে কি আছে তা ওনারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন আমরা এগুলো খুঁজে বের করে আলোকপাত করব। তারপরে রাজনীতিবিদরা কি করবে তা তাদের ব্যাপার।

এদিকে, দীর্ঘ বৈঠক শেষে তফসিল ঘোষণার তারিখ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, তফসিল ঘোষণাই শেষ কথা নয়, আবার দেয়া যাবে না বিষয়টা তেমনও নয়।

তিনি বলেন, আজ (রোববার) শুনেছি তফসিল ঘোষণার তারিখ দেয়া হয়েছে। এরপরও আমরা এখনো আশা করছি সংলাপ হবে। আমরা তো ইসিকে এ বিষয়ে জানিয়েছি। এখন সবই সরকারের উদ্যেগের উপর নির্ভর করছে।

মওদুদ বলেন, এ বিষয়ে আমরা দলীয়ভাবে আলোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানাবো। আগামীকাল (সোমবার) বিকেল ৫ টায় আমাদের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক আছে। সেখানে বিষয়টি তোলা হবে। এরপর আপনাদের জানানো হবে। তফসিল ঘোষণা শুধু বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর কোন দেশে ফাইনাল কিছু নয়। তফসিল এখনো দেয়নি, আট তারিখ দিতে পারেন আবার নাও দিতে পারেন বলে মন্তব্য এই নেতার।

ঐক্যফ্রন্টের একটি সূত্রের দাবী, আগামী বৈঠকে হয়তো মওদুদ আহমেদের প্রভাবের কারণে বিএনপির সবচাইতে সিনিয়র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন অংশ গ্রহণে বাদ পড়ে যেতে পারেন। তবুও দলের একটি অংশের মতামত যেহেতু শাহদীন মালিক ও আসিফ নজরুল আগামী বৈঠকে থাকবেন সেহেতু মওদুদ আহমেদের পরিবর্তে সিনিয়রকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাতে মোশাররফ হোসেনকে রাখা হয়।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১