আকাশবার্তা ডেস্ক :
নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ফের কারাগারে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার সময় এ মামলার শুনানি শেষ হলে তাকে আবারও নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাগারে নেয়া হয়।
এর আগে আজ (বৃহস্পতিবার) নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি জন্য ১ মাস ২ দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি জন্য আগামী ১৪ নভেম্বর (বুধবার) নতুন দিন ধার্য করেছেন।
পুলিশ ও কারাগারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, বিএসএমএমইউ থেকে কারাগারে ফেরত নেওয়ার পর খালেদা জিয়াকে আর হাসপাতালে নেওয়া হবে না। নাইকো মামলার শুনানি শেষে তাকে কারাগারেই রাখা হবে। এরই মধ্যে হাসপাতালে থাকা আসবাবপত্রও কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮নভেম্বর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে পুলিশের একটি কালো এসইউভি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে নিয়ে পুরান ঢাকায় কারাগারের পথে রওনা হয়। ১৫ মিনিটের মাথায় গাড়িটি কারাভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
সকাল থেকেই বিএসএমএমইউ এর চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। একইভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারের আশপাশেও। সকাল থেকে বন্দ করে দেওয়া হয় কারাগারের সামনের যান চলাচল।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর পুরান ঢাকার ওই বিশেষ কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করা হয় খালেদা জিয়ার।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এর পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা করছিল।
এর মধ্যেই গত ৩০ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর একদিন আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত। আজ সেখান থেকেই তাঁকে কারাগার চত্বরে স্থাপিত আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নাইকো দুর্নীতি মামলা সম্পর্কে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন। পরে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।