আকাশবার্তা ডেস্ক :
অশ্রুসিক্ত হাজারো নয়নে বিদায় জানানো হলো স্কুল শিক্ষক কবি কামরুল হাসান স্যারকে। তিনি লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। মঙ্গলবার ভোরে নোয়াখালীর মাইজদী ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহে………রাজেউন)। তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশ বিদেশে অবস্থানরত হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, তার অনুগত ভক্তবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিকেল ৫টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এরআগে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম বাবুল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান এম ছাবির আহম্মদ ও সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন, সাংবাদিক আলী হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। জানাজার নামাজ পড়ান মরহুমের আপন ভাতিজা মাওলানা তানভীর আহমেদ ছিদ্দিকী।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি ৫ ভাই, ১ বোন, ভাতিজা-ভাতিজী, অসংখ্যা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্খি ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
কবি কামরুল হাসান চন্দ্রগঞ্জ ইউপির ঐতিহ্যবাহী প্রতাপগঞ্জ মিয়া পরিবারের মরহুম মাওলানা ছফি উল্যাহ মিয়ার সন্তান। ৭ ভাই, ১ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ৪র্থ। মেজো ভাই মাওঃ হাবিবুর রহমান এর আগে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ১ মার্চ কবি কামরুল হাসান প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ১৯৮৪ সালে আমানীলক্ষ্মীপুর বেগম হামিদা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে মিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কবি কামরুল হাসান তাঁর জীবদ্দশায় অসংখ্যা কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস রচনা করেন। তাঁর রচিত এবং প্রকাশিত বই দেশ বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।