আকাশবার্তা ডেস্ক :
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সাক্ষাৎকার দিতে রাজধানীতে এসে নিখোঁজ হওয়া যশোর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বকর আবু’র লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে পাওয়ার ঘটনায় পুলিশকে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নরুল হুদা।
শুক্রবার (২৩নভেম্বর) সকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে বুড়িগঙ্গার তেলঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২২নভেম্বর) রাতে নিহতের ভাতিজা হুমায়ূন কবির সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহটি তার চাচার বলে শনাক্ত করেন।
তবে পুলিশ বলছে, মরদেহটি পচা-গলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাই ডিএনএ টেস্ট ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
নিহত আবু বকর আবু যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান বলেন, লাশের পরনে স্যান্ডো গেঞ্জি ও পাজামা ছিল। লাশ অনেকটায় পচে গিয়েছিল। পরে তার ভাতিজা লাশটি আবু বকর আবুর বলে দাবি করেছেন।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবু গত ১২ নভেম্বর ঢাকায় আসেন। গত সোমবার সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশ নেওয়ার জন্য পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলের চতুর্থ তলায় ৪১৩ নম্বর রুমে অবস্থান করছিলেন তিনি। ১৮ নভেম্বর রাত ৮টার পর তাকে আর পাওয়া যায়নি।
রাত ১০টার দিকে একটি মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে তার এক ভাগ্নের কাছে কল করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সোমবার সকালে অপহরণকারীরে দেওয়া বিভিন্ন নম্বরে দেড় লাখ টাকা বিকাশ করা হয়। পরে তাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকে অপহরণকারীদের সব মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
ঢাকায় অবস্থানরত আবু বকরের ভাতিজা হুমায়ূন কবির জানান, তার চাচা নিখোঁজের ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এরপর পুলিশ হোটেলে গিয়ে সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নরুল হুদা বলেন, তিনি পুলিশ হেফাজতে থাকলে আমরা পুলিশকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবো, যেন তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জানান সিইসি নুরুল হুদা।
তিনি বলেন, ইভিএম একটি নতুন উদ্যোগ। ব্যালটে ভোট দেওয়ার যে ঝামেলা, সেটি দূর করতে হবে। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই। দুয়েকদিনের মধ্যে কতটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে।
কে এম নূরুল হুদা বলেন, যেখানে ইভিএম ব্যবহার হবে, সেখানে কয়েকদিন আগে মানুষকে বোঝাতে হবে। যেন কোনো সমস্যা না থাকে। বিভিন্ন দল ইভিএমের বিরোধিতা করে। তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখুক। তাদের লোক দিয়ে ইভিএমের টেকনিক্যাল বিষয় পরীক্ষা করুক। তাহলে তাদের সংশয় কেটে যাবে।
জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ধৈর্য সহকারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা, কারিগরি দক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনায় আইন, বিধি-বিধান জানা দরকার। নির্বাচন পরিচালনা বিষয়ে আপনারা জানলেও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের সেটা জানা থাকার কথা নয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আপনারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনারা তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেবেন।
প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তারা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তারা থাকেন মাঠে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। অনেক সময় তীর্যক কথা বলতে পারেন, কিন্তু আমলে নেওয়া যাবে না। তারা প্রশ্ন করবেন, জানতে চাইবেন; সেগুলো তাদের বুঝাবেন।
নুরুল হুদা বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা আছেন, তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো দেখতে হবে। আগে এটি ছিল না, এখন সেটা করতে হবে। তাদের প্রশ্ন শুনে ধৈর্য ধরে উত্তর দিতে হবে।
সিইসি আরও বলেন, ৩০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে। দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দিনটিতে জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করবে। দিনটি রাজনৈতিক দলসহ সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর। বাছাই ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দের সময় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।