বৃহস্পতিবার ৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

১৬ দিন মাথা ঠাণ্ডা রাখার পরামর্শ ড. কামালের

আকাশবার্তা ডেস্ক :

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পরিকল্পিতভাবে ড. কামাল হোসেন ও আ স ম আব্দুর রবের গাড়িবহরে হামলা এবং বহু কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের অভিযোগ, ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এ হামলা করা হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আ স ম আবদুর রব, শাজাহান সাজুসহ ২৫-৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয় ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব এবং জগলুর হায়দারসহ ৮ নেতার গাড়ি।

গতকাল বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে ড. কামাল হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী আসলামুল হক আসলামের গুণ্ডাবাহিনী ছাত্রলীগের ইব্রাহিম, জাকির ও কমিশনার টিপুর নেতৃত্বে গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা করা হয়। হামলার সময় শতশত পুলিশকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ করেন ড. কামাল। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আমরা এগুলো কী দেখছি? লজ্জা পাও! লজ্জা পাও! এই সরকার আইনের উর্ধ্বে না। কার কথায় এগুলো করা হচ্ছে আমাকে জানাতে হবে। হামলাকারী ওরা কারা? ওরা হলো দুই পয়সার ভাড়াটিয়া। ‘তোমরা কত পয়সার বিনিময়ে কাজটা করেছ? চার পয়সা দেব, সরে যাও। এই হামলা শহীদের প্রতি অপমান।’ এ বিষয়ে আমি আইজিপিকে চিঠি দেবো। আইজিপির সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। আপনি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। আপনার বিশ্বস্ত লোক দিয়ে তদন্ত করবেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে কামাল বলেন, আর তো সময় নেই। ১৬ দিন ভালোভাবে দেশ চালান না হয় তারপর কি হয় বলতে পারছি না। সরকারের ক্ষমতার ৫ বছর শেষ হয়ে গেছে। আর ১৬ দিনের মতো আছে। এই ১৬ দিন মাথা ঠাণ্ডা রেখে বেআইনি আদেশ দেয়া বন্ধ রাখেন।’ ‘যে ১৬ দিন ক্ষমতায় আছেন মানুষকে মুখ না দেখিয়ে এদিক-সেদিক করে কাটিয়ে দেন। আপনাদের মুখ দেখবো না আমরা।’ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে হামলার প্রতিবাদ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পল্টনে জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, নজরুল ইসলাম খান, সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও ড. রেজা কিবরিয়া।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে ড. কামাল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের গাড়িতে ওঠার পরেই আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী আসলামুল হক আসলামের গুণ্ডাবাহিনী ছাত্রলীগের ইব্রাহিম, জাকির ও কমিশনার টিপুর নেতৃত্বে গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, জগলুল হায়দারের গাড়িসহ সাত থেকে আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় ঢাকা ১৪ আসনের এমপি প্রার্থী শাজাহান সাজু, আ স ম আবদুর রবের গাড়ি চালকসহ ২৫-৩০ জন গুরুতর আহত হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আওয়ামী লীগ পুলিশের সহায়তায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার প্রচারণায় বাধা, ভাঙচুরের মাধ্যমে সারাদেশে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। যা একটি অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অন্তরায়। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এটা অনুভব করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। সাত দফা দাবির একটি ছিল অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে তার সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

ড. কামাল বলেন, আমরা মনে করি আজকের বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতীয় নেতাদের ওপর আক্রমণ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ওপর আক্রমণের শামিল। এই দুর্বৃত্তায়িত আওয়ামী লীগের মুখে স্বাধীনতা কথা মানায় না। আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আজকের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি একই সাথে নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য আবারো আহ্বান জানাচ্ছি। ড. কামালের গাড়িবহরে কী ঘটেছিলো? ঘটনার বর্ণনা করেন আ স ম আব্দুর রব। তিনি বলেন, ‘এটা খুব দুঃখজনক, মর্মান্তিক! আমার ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি অনেক হামলা মোকাবিলা করেছি। কিন্তু ড. কামাল হোসেনসহ আমাদের ওপর হামলা করার দুঃসাহস দেখাল ওরা, এটা কল্পনার বাইরে।’

তিনি বলেন, ‘হামলা এ কারণেই যে, আমরা যেন ৩০ তারিখের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। কিন্তু, ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকী ভয় পাওয়ার লোক না। আমরা ১৯৭১ সালে ৯ মাস যুদ্ধের মাঠে ছিলাম। সুতরাং আমাদের ভয় দেখিয়ে ভোটের মাঠ থেকে তাড়ানো যাবে না।’ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির ঢাকা মহানগরের নেতা আব্দুস সালাম, রেজা কিবরিয়া, আমাদের প্রার্থী ব্যারিস্টার বাদল, কায়সারসহ আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের নেতারা কথা বলেন। কথা শেষ করে আমরা যখন বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের প্রথম গেটের পর মধ্যখানের গেটে এসে উপস্থিত হয়েছি, তখন তারা ব্ল্যাংক ফায়ার করেছে ভয় দেখানোর জন্য। এরপর ইট-পাটকেল, লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে হামলা করেছে। আমার ড্রাইভার যদি সাহস করে গাড়ি না চালাতো, তাহলে আমার কী হতো, সেটা বলতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করতে চাই। আমরা আজ (গতকাল) শহীদ বুদ্ধিজীবীর মাজারে যাবো, ওরা (সরকার) তা জানতো। প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে চলে আসার পর সব পুলিশ তুলে নেয়া হলো। আমাদের ওপর যখন হামলা হয়, ভেতরে তখন কোনো পুলিশ ছিল না এটা পরিকল্পিত। রব বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের এখন আমরা প্রতিরোধের নির্দেশ দিচ্ছি না। আমাদের নেতার নির্দেশ- শান্ত থাকতে হবে, সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। আমরা ৩০ তারিখে জনগণকে সাথে নিয়ে ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমরা ব্যালটে যুদ্ধ করতে চাই, ব্যালটে লড়াই করতে চাই। স্বৈরশাসনকে বাংলাদেশ থেকে বিদায় করতে চাই।’ ‘এ লড়াই জনগণের অধিকার, কর্তৃত্ব, সাংবিধানিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার লড়াই। এই লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে। আমরা মরব, সরব না’ বলেন আ স ম আব্দুর রব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অবাক লাগছিল যখন আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মঈন খান, আফরোজা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতাদের গাড়িতে হামলা করা হয়। তখন ভেবেছিলাম হয়তো সরকার বিএনপির ওপর রাগ! এখন দেখছি না, সরকার সবার ওপর রাগ! আওয়ামী লীগ শুধু বিএনপিকে ভয় পায় না, ড. কামাল হোসেন আ স ম আবদুর রবকেও ভয় পায়। ইসিকে নিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুনছি তিনি মিনমিন করে বিব্রত হওয়ার কথা বলেন। আমার প্রশ্ন তিনি মিনমিন করে বলবে কেন? তিনি কী মসজিদের ইমাম? ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব আপনার। না পারলে পদত্যাগ করুন। আপনারা প্রজাতন্ত্রের, সরকারের না। সবার জন্য সমান সুযোগে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিদ, রেজা কিবরিয়াসহ অন্যরা।

আজ ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ শনিবার রোডমার্চ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া আগামীকাল রোববার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিজয় র‌্যালি বের করা হবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এ সময় তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতই হামলা করা হোক, আমরা ২৯ তারিখ পর্যন্ত মাটি কামড়ে নির্বাচনে থাকবো। ৩০ তারিখ আমরা প্রতিরোধে যাবো। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল করতে আমাদের প্রার্থীদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা শুরু হয়েছে। কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মান্না বলেন, আমরা শনিবার (আজ) বিকাল ৪টায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত রোডমার্চ পালন করবো। এর মধ্যে টঙ্গিসহ বিভিন্ন জায়গায় সংক্ষিপ্ত জনসভা করা হবে। একইভাবে আজ সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ নিয়ে বিজয় র‌্যালি করা হবে। প্রচারে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনও পতাকা ব্যবহার করবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ প্রটেকশন পেলে ড. কামাল কেন পাবেন না। তাকেও এ সুযোগ দিতে হবে। এসব মন্তব্য করেন জেএসডির প্রধান আ স ম আবদুর রব। আবদুর রব বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে আমাদের ওপর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পাশে হামলা হয়েছে। আমরা যেন নির্বাচন থেকে সরে যাই, এ জন্য হামলা হয়েছে। আমরা নির্বাচনে আছি এবং থাকবো।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১