সর্বশেষ:
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া

কামাল হোসেনের ইউটার্ন!

আকাশবার্তা ডেস্ক :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসা ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে ছাড়া নিজেই নতুন সংসদ ও সরকারকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অবিশ্বাস দেখা দিতে পারে এবং এতে ঐক্যে ফাটল ধরতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এই অবস্থায় আগামী দিনের আন্দোলনেও ঐক্যবদ্ধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

যদিও ড. রেজা কিবরিয়া তার নেতাকর্মীদের সত্যিকারের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তাই এই বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে চাচ্ছেন না কেউ।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পর নতুন সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন নিজেই স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন।

বিএনপি শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নির্বাচনে গণফোরাম থেকে বিজয়ী দুজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই শীর্ষ নেতা। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্র্নির্বাচনের দাবি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তোলার পর তাদের জোট থেকে বিজয়ীদের শপথ নেয়া নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কিন্তু গতকাল কামাল হোসেন দলের এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেছেন, তারা বিষয়টি ‘ইতিবাচক’ দৃষ্টিতে দেখছেন এবং ‘ইতিবাচক’ সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিসহ তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সবাই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও উপস্থিত ছিলেন না ঐক্যফ্রন্ট থেকে ভোটে বিজয়ী বিএনপির পাঁচ এবং গণফোরামের দুজন। এদের মধ্যে একজন ধানের শীষ প্রতীকে অন্য জন বিএনপির সমর্থনে বিজয়ী হয়েছেন।বিএনপির প্রার্থী সংকটের কারণে সিলেট-২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে বিএনপি সমর্থন দেয় গণফোরামের মুকাব্বির খানকে। আর গণফোরাম থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে জয়ী হয়েছেন সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সম্ভবত বিএনপিকে রেখেই সংসদে যাচ্ছে গণফোরাম।

এমনটিই ইঙ্গিত দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি বলে দিয়েছেন, ফল প্রত্যাখ্যান করলে শপথ থাকে নাকি আর? ..আমরা শপথ নিচ্ছি না, পরিষ্কার করে বললাম। গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুজন শপথ নিচ্ছেন কি না- প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল হোসেন বলেন, তারা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। আর যে দুজন প্রার্থী নির্বাচনে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আমরা তাদের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে সিদ্ধান্ত নেব। বিএনপি যেহেতু শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের প্রতীকে ভোট করে গণফোরাম সদস্য শপথ নিলে তা দুই দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করবে কি না?

এমন প্রশ্নের উত্তরে কামাল বলেন, ‘আমার মনে হয় না।’জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ এ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি আশা করেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এ ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেবে না।

প্রহসনের এ নির্বাচনে জনগণের মতামতের কোনো প্রতিফলনই ঘটেনি। এই নির্বাচনকে সরকারের একটি ‘পাতানো নির্বাচন’ বলেও দাবি করেছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।আন্দোলন বিষয়ে ওই সময় ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, তারা ৩০ ডিসেম্বরই পাতানো এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে তফসিল ঘোষণা ও পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এতে মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৬টি এবং জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাসদ দুটি, বিকল্পধারা দুটি এবং বাংলাদেশ জাসদ, তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি করে আসন পায় নির্বাচনে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় সাতটি। এর মধ্যে এককভাবে বিএনপি পাঁচটি ও গণফোরাম দুটি। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পায় তিনটি আসন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930