মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি
প্রতিকী ছবি

চন্দ্রগঞ্জে বাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দৈন্যদশা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শুক্রবার সকাল ৯টায় চন্দ্রগঞ্জ বাজারে এসেই দেখা হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মী (মালি) বিপ্লবের সাথে। তাকে বললাম ভাই আবর্জনা পরিস্কার তো ভালোভাবে হচ্ছে না। সাথে সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিপ্লব বললেন, যে বাজারের ব্যবসায়ীরা মালির ৫ টাকা দিতে পারেনা। সেখানে কাজ করবো কীভাবে। ৫ টাকার জন্য একজন ব্যবসায়ীর কাছে ৫ বার হাঁটা লাগে। আবার অনেকে বলেন, বাজার কমিটি বেতন দেয়না? তোমরা আমাদের কাছে আসো কেন? উল্টো ব্যবসায়ীদের কাছে হয়রানির শিকার হতে হয় মালিদের।

জানা যায়, বিশাল চন্দ্রগঞ্জ বাজারে মালির কাজ করেন বিপ্লব ও সিরাজ নামে মাত্র দুজন ব্যক্তি। কিন্তু দুজনে এত বড় বাজারের ময়লা, আবর্জনা একদিনে অপসারণ করা সম্ভব হয়না। হাটবারের দিন রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দুজন মালি আবর্জনা পরিস্কার করে ভোরে ঘুমাতে যান। এরপরও পুরো বাজারের আবর্জনা সরানো শেষ হয়না। কারণ, এখানে মালির প্রয়োজন রয়েছে অন্তত চারজন। হাটের একদিন পর শনিবার ও মঙ্গলবার মিলে তারা সপ্তাহে ৪দিন ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করেন। পারিশ্রমিক হিসাবে তারা দুজনে ইজাড়াদারের পক্ষথেকে ৩ হাজার টাকা করে ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতন পান। পারিশ্রমিকের বাকী টাকা মালিরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কালেকশন করে নিতে হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ঠিকমত টাকা দেয়না। একজনের কাছ থেকে ৫ টাকা কালেকশন করতে তাদেরকে ৫ বার হাটতে হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী টাকা দেননা। কালেকশন শেষে দেখেন একজনের ১২/১৩শ’ টাকার বেশি কালেকশন হয়না।

মালি বিপ্লব জানায়, আজকালকের দিনে এই বেতনে কী একজন মানুষ তার পরিবার নিয়ে চলতে পারে? তিনি বলেন, আমরা যে বেতন পাই এখনকার দিনে চা-নাস্তা খাওয়ার জন্যও এরচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়। ব্যবসায়ীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ নয়, দায়িত্ববোধ থেকে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আসলে মালিরা যে টাকা বেতন পায় তা অপ্রতুল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা যদি বাজার পরিস্কার রাখার জন্য প্রতিসপ্তাহে অন্তত ৫ টাকা করে দিত, তাহলে তাদের চাহিদা থাকতো না। এ জন্য তিনি বাজার কমিটির সভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করার প্রস্তাব করেছেন, চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলী হোসেন। তিনি বলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজ সেবকদের তালিকা করে তাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট অংকের টাকা কল্যাণ ফান্ডের জন্য নেওয়া যেতে পারে। ন্যুনতম ৫শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে এই টাকা কল্যাণ ফান্ডে জমা দিতে হবে। প্রতিমাসের ৫ তারিখের মধ্যে এই টাকা কালেকশন করে নৈশপ্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতনসহ ছোট-খাটো উন্নয়ন করা যেতে পারে কল্যাণ তহবিলের টাকা থেকে।

এ জন্য উদ্যোগে নিতে হবে বাজার কমিটিকে। তালিকা করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০