অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
উৎপাদন না থাকা, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা ও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিই গতবছরজুড়ে শেয়ারদর বৃদ্ধিতে ছিল আলোচনায়। ২০১৮ সালজুড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানিই এ প্রকৃতির। অস্বাভাবিকভাবে শেয়ারদর বৃদ্ধির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এসব কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ তালিকায় থাকা কয়েকটি কোম্পানির লেনদেন পর্যন্ত সাময়িক বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তার পরও এসব কোম্পানির শেয়ারদরই সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বছর শেষে। গতবছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের কোম্পানির তথ্য নিয়ে ডিএসইর এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। ডিএসইর ডি-লিস্টিংয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৪টি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও উৎপাদনসহ যাবতীয় কার্যক্রম রিভিউ করা হচ্ছে। জানা গেছে, পুঁজিবাজার থেকে ডি-লিস্টিংয়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ এটি।
যাচাই-বাছাইয়ের পরে সিদ্ধান্ত নিবে ডিএসই। উদ্যোগের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জানাতে ডিএসইর ওয়েবসাইটেও নিয়মিত এ নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ দর বৃদ্ধিতে থাকা সোনারগাঁ টেক্সটাইলেরও নাম রয়েছে ডিএসইর যাচাই-বাছাই তালিকায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে গত এক বছরে ৯টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে শতভাগের ওপরে। দুইশ ভাগের ওপরে বৃদ্ধি পেয়েছে তিনটি কোম্পানির শেয়ারদর।
এক বছরে দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের ২৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ দর বেড়েছে। গত বছরের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৬৫ টাকা। বছর শেষে তা হয়েছে ১৯০ টাকার ওপরে। দর বৃদ্ধিতে এর পরই রয়েছে আইটি খাতের কোম্পানি ইনটেক লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ২২১ শতাংশের বেশি। কোম্পানিটি গতবছরের শেষের দিকে ঘোষণা দিয়েছে বিদেশি একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে আমাজন ওয়েব সার্ভিস দেবে বাংলাদেশে।
একইসঙ্গে দুটি কোম্পানির বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু কোম্পানিগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না ডিএসই। তথ্য বলছে, দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ দশটিতে থাকা সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে আলোচিত সময়ে ২১১ দশমিক ১৫ শতাংশ, প্রকৌশল খাতের বিডি অটোকারসের (বাংলাদেশ অটোকারস) ১৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ, মুন্নু জুট স্ট্যাফলারসের ১৩১ দশমিক ৩৯ শতাংশ ও নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ১২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এছাড়া সিরামিক খাতের মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের ১৭৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, বস্ত্র খাতের সায়হাম টেক্সটাইল মিলসের ১৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং শতভাগের নিচে থেকে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি রোধে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, মুন্নু জুট স্ট্যাফলারস ও বিডি অটোকারসের শেয়ার লেনদেনও কিছুদিন বন্ধ রেখেছিল বিএসইসি। অপরদিকে তালিকাচ্যুত হতে পারে এমন শঙ্কার মধ্যেও দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ দশটিতে রয়েছে সোনারগাঁ টেক্সটাইল। গতবছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি ১১৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। যদিও দর বৃদ্ধির শীর্ষে নেই মৌলভিত্তির কোনো কোম্পানি। বছর শেষে ভালো ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিও নেই এ তালিকায়। এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সুশাসনের অভাবের কারণেই বিতর্কিত ও অস্বাভাবিক কোম্পানির দর বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে।