বিনোদন ডেস্ক :
গত বছরের মার্চে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি ও এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখা যায়, কোনো একটি চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পপির মেকাপ ঠিক করে দিচ্ছেন মাহফুজুর রহমান। তখন ছবিটি নিয়ে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি গত বছরের হলেও নতুন করে আবার আলোচনায় সেই ছবিটি।
এবার আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বয়ং মাহফুজুর রহমান। আর এ নিয়ে বাগযুদ্ধে মেতেছেন দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা পপি ও মাহফুজুর রহমান। দ্বন্দ্বটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংবাদমাধ্যমের কাছে একে অপরের প্রতি বিষেদ্গার করছেন।সম্প্রতি নিজের চ্যানেলেরই একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাহফুজুর রহমান পপিকে ‘বেয়াদব মেয়ে’ ও ‘হারামজাদি’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি টক অব মিডিয়ায় পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মাহফুজুর রহমান বলেন, পপি একটা ছবি দিয়েছিল, তাকে মেকাপ করে দিচ্ছি। ওই শয়তান মেয়ে এটা করেছিল। ওর এই জিনিসটা করা খুবই জঘন্যতম কাজ হয়েছে। সে লিখেছে, এখন থেকে পপির নতুন মেকাপম্যান মাহফুজুর রহমান। কত জঘন্য কাজ করেছে। তারপর থেকে পপিকে এই এরিয়ার মধ্যে আমি ঢুকতে দেই না।এটিএন বাংলার কার্যালয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় ‘সময় ও অসময়ের গল্প’ সিরিজ নাটকের সংবাদ সম্মেলনে পপি সম্পর্কে নিজের বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি কোনো খুঁত দেখতে পারি না। এটিএন বাংলায় কোনো গান তৈরি হলে আমি নিজে থাকি এর সঙ্গে। প্রয়োজনে নিজে সুর করে দেই যদি সুরটা ভালো না লাগে। কখনো কখনো মিউজিকও করি আমি। এটা আমার একটি অভ্যাস। টুকটাক অনেক কিছুই করতে পারি। আমি মেকাপও করতে পারি।
এই তো কয়েকদিন আগে এফিডিসিতে একটি শুটিং ফ্লোরে পপির মেকাপ ঠিক করে দিলাম। কিন্তু বেয়াদব মেয়েটা সেই মেকাপ ঠিক করার ছবি সাংবাদিকদের দিয়েছে, নিউজ করিয়েছে আমি নাকি তার মেকাপম্যান। এটা খুবই অন্যায় করেছে সে। যদিও পরে ভুল বুঝতে পেরেছে। কিন্তু আমি মাফ করিনি। বলেছি, তুমি আমাকে অপমান করেছ; সবাই দেখেছে। তুমি মাফ চাইলেও সবাইকে জানিয়ে চাইতে হবে। তুমি মাফ চাইবে আমি চ্যানেলে সেটা দেখাব সবাইকে।মাহফুজুর রহমান আরো বলেন, ওই মেয়ের জন্য কী না করেছি আমি। সবসময় নতুনদের সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করি। পপি যখন নতুন ছিল, তাকেও অনেক সুযোগ দিয়েছি। সেই পপি যদি আমাকে তার মেকাপম্যান বলে সেটা অপমানের। ওই ‘হারামজাদি’ যেন এটিএন বাংলার ত্রিসীমানায় না আসতে পারে।
এদিকে, মাহফুজুর রহমানের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পপি। তিনি দাবি করেন, আমি মাহফুজুর রহমানকে এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। উনি পারলে প্রমাণ দিক। তিনি মেকাপের ছবি প্রকাশের ঘটনায় মাহফুজুর রহমানের বিষোদ্গারের জবাবও দিয়েছেন।মাহফুজুর রহমান তার গালে মেকাপ করে দিচ্ছেন এ ছবি তিনি প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেননি বলে দাবি করেন পপি। পাশাপাশি একজন অভিনেত্রীর প্রতি বিশেষত একজন নারীর প্রতি সম্মান রেখে মাহফুজুর রহমানকে কথা বলার পরামর্শ দেন হালের জনপ্রিয় এ নায়িকা।
পপি গতকাল জানালেন, এটি একদম ভিত্তিহীন কথা। আমি কোথায় কখন মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে এমন (মেকাপম্যান) মন্তব্য করেছি প্রমাণ দিক।পপি বলেন, তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক। আমি তার সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। সেদিক থেকে তিনি আমার কাছে সম্মানের। আমি কখনো কারো সম্পর্কে কোনো খারাপ মন্তব্য করি না। কেউ আমার মনে কষ্ট দিলেও আমি তাকে আক্রমণ করে কিছু বলি না।মাহফুজুর রহমানের বিষোদ্গারের বিষয়ে পপি আরো জানান, তিনি মাহফুজুর রহমানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি মাহফুজুর রহমানের কাছে ক্ষমা চাননি।
মাহফুজুর রহমানকে নারীর প্রতি সম্মান রেখে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে জনপ্রিয় এ নায়িকা বলেন, মাহফুজুর রহমানের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। তার উচিত একজন অভিনেত্রীকে বিশেষত নারীদের সম্মান দিয়ে কথা বলা। এভাবে কোনো নারীকে অপমানসূচক কথা তিনি বলতে পারেন না।পপি বলেন, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, যে দেশের নারীরা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছেন, সম্মানিত করছেন দেশকে। সে দেশের একজন নায়িকাকে নিয়ে মাহফুজুর রহমানের এমন মন্তব্য সত্যিই অপ্রত্যাশিত।মাহফুজুর রহমান তাকে মেকাপ করিয়ে দেয়ার ঘটনার বিবরণ দিয়ে পপি বলেন, আমি একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য এফডিসিতে মেকাপ করছিলাম। সেই সেটে মাহফুজুর রহমান স্যার এসেছিলেন। তিনি যখন দেখেন আমার মেকাপম্যান ঠিকমতো মেকাপ করতে পারছিল না, তখন তিনি নিজেই আমার মেকাপ ঠিক করে দেন।
সেই সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে পপি আরো বলেন, সেই সময় (মেকাপ) সেখানকার পরিবেশটা হাস্যোজ্জ্বল ছিল। শুটিং সেটে চলচ্চিত্র অঙ্গনের লোকজন ছাড়াও অনেক সংবাদকর্মী এবং আলোকচিত্রীও ছিলেন। সবাই সেই ছবি তুলে ফেলেন। সেই ছবি নিয়ে পত্রিকাসহ গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে।পপি কাউকে এ নিয়ে নিউজ করতে নির্দেশনা দেননি জানিয়ে বলেন, আমি আজ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিককে ফোন করে বলিনি আমার সংবাদ করতে, তারা নিজেরাই ফোন করে আমার কাছ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন। আমি জানি না, আমার দোষটা কোথায়?এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ভুল তথ্য পেয়েছেন জানিয়ে পপি বলেন, মাহফুজুর রহমান স্যার কেন এমন করে বললেন (প্রতিক্রিয়া) সেটিও জানি না। হয়তো কারো মাধ্যমে তিনি ভুল তথ্য পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিএফডিসিতে নির্মাতা সাদেক সিদ্দিকী পরিচালিত ‘সাহসী যোদ্ধা’ চলচ্চিত্রের শুটিং ইউনিটে মেকআপ নিচ্ছিলেন পপি। এসময় ড. মাহফুজুর রহমান সেখানে গিয়ে মেকআপে ত্রুটি আছে বলে নিজেই পপির মেকআপ ঠিক করে দেন।