আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজধানীর চকবাজারের নন্দ কুমার দত্ত রোডের কয়েকটি ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মরদেহ শনাক্ত করে হস্তান্তর শুরু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে। তবে মরদেহ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।
বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার পর থেকে শুরু হয়েছে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া। তবে শনাক্ত করা মরদেহগুলোর হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আহাজারিরত স্বজনদের।
দুপুর ১টার সময় মো. বাবুল তার ভগ্নিপতি কামাল হোসেনের মরদেহ বুঝে পেয়েছেন। কিন্তু হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করতে লাগছে দীর্ঘ সময়। আর অপেক্ষারত স্বজনদের আহাজারিতে যেন কেঁপে উঠছে ঢামেক হাসপাতালের প্রতিটি কণা।
মো. বাবুল বাংলানিউজকে বলেন, মরদেহ হাতে পেয়েছি এবং তারা যেসব তথ্য চেয়েছে সবকিছু দিয়েছি। এমনকি প্রমাণিত হয়েছে এটা আমার আত্মীয়র মরদেহ। তবুও তারা কি কাজ করছে জানি না, বলছে টাকা পয়সা দেবে। এসব করতে নাকি দেরি হচ্ছে। আমাকে দ্রুত মরদেহ বুঝিয়ে দিলেই আমার সুবিধা হয়। কারণ আমার বোন ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে তার দেখভাল করতে হবে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ হাজার করে টাকা নিহতের পরিবারের সঙ্গে দিয়ে দেওয়ার ঘোষণা এর আগেই দেওয়া হয়েছে। তবে এই টাকার খবর জানেন না মরদেহ গ্রহণকারী স্বজনদের অনেকে। টাকা নিতে আগ্রহীও নন তারা।
রফিকুল ইসলাম শনাক্ত করতে পেরেছেন তার ভাইয়ের মরদেহ। কাঁদতে কাঁদতে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়া রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর ছাড়া মরদেহ বুঝিয়ে দেবেন না। কিন্তু সেখানে রোগীর অন্যান্য স্বজনরা উপস্থিত রয়েছেন। রফিকুল ইসলামের নাম শুরুতে লেখা হয়েছিল বলেই তার স্বাক্ষর দিয়েই নিয়ম অনুসারে দিতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে রফিকুলের আরেক স্বজন বাংলানিউজকে জানান, প্রথমত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যু হয়েছে। এই কষ্ট কাটিয়ে উঠতে না উঠতে এখন মরদেহ নিতে আবার স্বাক্ষরের সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার স্বাক্ষর দেওয়ার কথা সে বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। তাকে আনতেও পারছি। পুলিশ তাকে দেখছে কিন্তু দিচ্ছে না।
আবার ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে এমন কোনো ঘোষণার কথা তারা জানেনই না। এ বিষয়ে ওই স্বজন আবার বলেন, টাকার ব্যাপারে আমাদের কোনো দাবি নেই। দ্রুত মরদেহ দিয়ে দিলেই হবে।
এদিকে কর্তব্যরত পুলিশদের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি যে নির্দেশনা দেওয়া আছে সে অনুসারেই আমরা কাজ করছি। নিয়ম বহির্ভূত কোনো কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আমরাও চেষ্টা করছি দ্রুত মরদেহ হস্তান্তর করতে।
পুরান ঢাকার চকবাজারে ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৭০ জনের মধ্যে ৪১ মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন নারী, দুই শিশু ও ৩৭ জন পুরুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আবাসিক ভবনটিতে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।