আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কাজ করতে চাই দেশের উন্নয়নের জন্য। এমনভাবে দেশকে গড়বো যেন সারা বিশ্ব বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে।
রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামে দেশের প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল এর বোরিং কার্যক্রম এবং শহরের লালখান বাজার হতে শাহ্ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে পতেঙ্গার রিং রোডে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী, তিনি চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন। নদীর ওপর ব্রিজ করলে নদীর ক্ষতি হবে। তাই গণমানুষের এই নেতা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনও করেছিলেন। আমরা ২০১০ সালে ঘোষণা দিয়েছিলাম, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করবো। এবার তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এর মধ্য দিয়ে উন্নয়নের নতুন ধাপে আমরা প্রবেশ করলাম।
শেখ হাসিনা বলেন, আজ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। তিনি থাকলে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন। বাংলাদেশের অনেক আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান রয়েছে। আজ আমি তাকে স্মরণ করছি।
টানেল নির্মাণ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা কন্যা বলেন, চীন সফরে গেলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলাপ হয়। আলোচনার পর ওইদিনই আমরা চুক্তিতে সই করি। চীন সরকার সাধারণত ঋণের ৮৫ ভাগ দিয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য শতভাগ সহায়তা দিয়েছে তারা। আমাদের আগ্রহ দেখে চীনের প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা দিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্টও বেশ সহযোগিতা করেছেন। তাদের এই সহায়তায় এই মহাযজ্ঞতায় আমরা প্রবেশ করেছি।
সমাবেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রামে মেট্রোরেল করা যায় কি না সে ব্যাপারে নেত্রীর চিন্তাভাবনা রয়েছে।
সমাবেশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, চীনের রাষ্ট্রদূত ও মন্ত্রিপরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য, সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সমাবেশের আগে সকাল ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের খননকাজ উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অর্থ সহায়তা দেবে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। দুই টিউবের মূল টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এর সঙ্গে টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ৭২৭ মিটার ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে।।