আকাশবার্তা ডেস্ক :
কিছু দিন আগেও কাকডাকা ভোরে মিছিল নিয়ে বের হতেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এখন তিনি সময় পরিবর্তন করেছেন। বের হোন দিনের শেষ বেলায়! কিছুটা পরিবর্তনও দেখা গেছে। আগের মিছিলে কখনো ১৯ জন কখনো ২১ জন কর্মী দেখা গেলেও এবারের মিছিলে লোক সংখ্যা বেড়ে প্রায় অর্ধশততে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল শুক্রবার শেষ বিকালে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে ব্যানারবিহীন একটি মিছিলে এ দৃশ্য দেখা যায়। গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেলের দিকে এগিয়ে স্কাউট মার্কেট ঘুরে ফকিরাপুল হয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪-১৫ মিনিটে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিজভী বলেন, সরকার আইন, বিচার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করেছে। গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কব্জায় রাখার চেষ্টা করছে। সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে বলেই আমাদের রাজপথেই অবস্থান নিতে হবে।তিনি বলেন, মিডনাইট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।
নির্দোষ বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে গায়ের জোরে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। মানুষ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার সকল মানবাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। ‘গণতন্ত্রের মা’ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথই আমাদের একমাত্র ঠিকানা।তিনি আরও বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে রাজপথেই গণতান্ত্রিক শক্তির উদ্বেল অভিযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া গণতন্ত্রের মুক্তি আসবে না, দেশের জনগণ চিরদিনের জন্য তাদের নাগরিক স্বাধীনতা হারাবে। একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন এখন আরও নিষ্ঠুর চেহারা নিয়ে জনগণের কাঁধে চেপে বসেছে।
দেশবাসীর জীবন ও নিরাপত্তা এখন গভীর সংকটাপন্ন। সাধারণ মানুষ গুমের ভয়ে, বিচার বহির্ভূত হত্যার ভয়ে, গায়েবি মামলার ভয়ে শঙ্কা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না। বিদ্যমান অন্ধকার অমানিশার অবসান ঘটাতে হবে। এ জন্যই সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপোষহীন নেত্রী, বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে হবে।মিছিলে ঢাকা মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও মৎস্যজীবীদলের নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।