শনিবার ৭ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ফাইল ছবি

‘থলের বিড়ালকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারলেন না সিইসি’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

থলের বিড়ালকে আর বেশিদিন আটকে রাখতে পারলেন না প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। আসলে সত্যকে ঢেকে রাখলেও তাতে লাভ হয় না। সত্য কুহেলিকার আচ্ছাদন ভেদ করে বের হবেই। মিডনাইট নির্বাচনের আসল সত্যটি সিইসি মুখ ফসকেই বলে ফেলেছেন।

শনিবার (০৯ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি কে এম নূরুল হুদা শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ভোটে অনিয়ম এড়াতে ইভিএমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আগামীতে ভোটে ইভিএম শুরু করে দেব, তাহলে সেখানে আর রাতে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না।”

তার ওই বক্তব্য ধরে রিজভী বলেন, “প্যান্ডোরার বাক্স থেকে এখন আসল ঘটনাগুলো বের হতে শুরু করেছে। থলের বেড়ালকে আর বেশিদিন আটকে রাখতে পারলেন তিনি। মিডনাইট নির্বাচনের আসল সত্যটি এখন সিইসি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন।

“আপনার (সিইসি) এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকল জাতির কাছে যে, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার একটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার বঞ্চিত করে কী করে মধ্যরাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।”

বিএনপির অভিযোগ নাকচ করে ইসি বলেছিল, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই ধরনের কোনো অনিয়ম হয়নি।

রিজভী বলেন, “আমরা বলতে চাই, মিডনাইট নির্বাচনের হোতা আপনি (সিইসি)। একটি অবৈধ সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতেই আপনি মহাভোট কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করলেন। “তবে সিইসি মনে রাখবেন, পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না। আম-জনতার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতেই হবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নে রিজভী বলেন, “মিডনাইট নির্বাচন যে হয়েছে, তা উনার (সিইসি) কথার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে এসেছে। অর্থাৎ ইভিএম নেই বলে মিডনাইট নির্বাচন তো হয়েছে এটাই তো স্পষ্ট। “উনার মুখ দিয়ে এবং উনার আরেক কমিশনারের মুখ দিয়ে অজান্তে সত্য কথাটাই বেরিয়ে এসেছে। সত্যকে চাপা রাখা যায় না।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “গতকাল (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, পঁচাত্তরের পরে জিয়াউর রহমান খলনায়ক। ইতিহাস কিন্তু মানুষের মনেই রচিত হচ্ছে। আপনার হাতে বন্দুক আছে বলে আপনি জোর করে ইতিহাস রচনা করবেন। ওই ইতিহাস একদিন মানুষ টুকরো টুকরো করে বাতাসে ছুড়ে ফেলে দেবে।

“তখন যে ব্যক্তিটি মানুষের কাছে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে হৃদয়ের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে রক্তের শ্বেত-লৌহ কনিকার মধ্যে স্বাধীনতার অভয় মন্ত্র যিনি শুনালেন তিনি খলনায়ক!” অসুস্থ কারাবন্দি নেত্রী খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে গুলশানের ইউনাটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবিও জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

রিজভী বলেন, “নানাভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একরতফাভাবে ঢাকা জেলা বার সমিতির এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনেও মিডনাইট ভোটের পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সাধারণ জনগণের মতো বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এখন বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত।

“প্রহসনের পর প্রহসন এবং তামাশার নানা অভিনবত্ব অবলোকন করছে দেশবাসী। আমরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচন প্রত্যাখান করছি।” ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বেশিরভাগ পদে জয়ী হয়েছে।

রিজভী বলেন, “গত পরশুদিন ঢাকা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দফা সাত দিন আগে হয়েছে। জালভোট প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে সাত দিনের ব্যবধান করা হয়েছে।

“দ্বিতীয় দফার দিন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিএনপির প্যানেলের কমিশনার যিনি ভোট গণনার দায়িত্বে ছিলেন তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। তাছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে তিনি একজন কট্টর আওয়ামীপন্থি আইনজীবী।”

উল্লেখ্য, ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০১৯-২০২০ মেয়াদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সমমনা সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল শুক্রবার মধ্যরাতে ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচনে ২৭টি পদের মধ্যে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮টি পদেই বিজয়ী হয় সাদা প্যানেল। এর মধ্যে ৯টি সম্পাদকীয় ও ৯টি সদস্য পদ পেয়েছে তারা। অপরদিকে বিএনপি-সমমনা সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ঐক্যের নীল প্যানেল সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ ৩টি সম্পাদকীয় ও ৬টি সদস্য পদে জয়লাভ করেছে।

নির্বাচনে সাদা প্যানেলে ৯টি সম্পাদকীয় পদে বিজয়ীরা হলেন– সভাপতি পদে গাজী শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান খান রচি, সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দুলাল, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ ওমর ফারুক আসিফ, দফতর সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম কাদির, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হুমায়ুন খন্দকার টগর ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. উজ্জ্বল মিয়া।

অপরদিকে নীল প্যানেলের ৩ সম্পাদকীয় পদে বিজয়ীরা হলেন– সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম দেওয়ান, গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মো. জিয়াউল হক জিয়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোরশেদা খাতুন শিল্পী।

নির্বাচনে এবার মোট মোট ২৭ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ৫৪ জন প্রার্থী। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৭ হাজার ৮৯৭ জন আইনজীবী। তবে দুদিনব্যাপী ভোটগ্রহণে ৯ হাজার ৩৬৪ জন ভোট দেন।

এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান বাদল। বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ করা হয়।

পরে বৈরী আবহাওয়া ও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকায় দ্বিতীয় দিন গত বৃহস্পতিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। গত মঙ্গলবার কমিশন এক সভায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনের ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী ওইদিন ভোটগ্রহণ করা হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১