বৃহস্পতিবার ৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ধর্ষকদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ধর্ষকদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ধর্ষকের প্রতি যেন সবার ঘৃণা জন্মায়, সেজন্য তাদের নাম-পরিচয় ‘ভালোভাবে’ প্রকাশ করতে হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (০৯মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নাহারও বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকাল আমরা দেখি প্রায়ই শিশু ধর্ষণ ও নারী ধর্ষণ। এটা অত্যন্ত গর্হিত একটা কাজ। যারা করে তারা সমাজের শত্রু। তাদের প্রতি ঘৃণা। “যারা এ ধরনের কাজ করে, তাদের নাম-ধাম-চেহারা ভালোভাবে প্রচার করা নির্যাতিতা নারী না, যে ধর্ষক তার পরিচয়, তার চেহারা এমনভাবে প্রচার করা সমাজের প্রতি স্তরের মানুষ যেন তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। এইভাবে তাকে একেবারে সমাজের বাইর করে দেওয়া প্রয়োজন।”

ধর্ষণকারীর শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের সচেষ্ট থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।”

ধর্ষণকে বিশ্বব্যাপী সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমনকি উন্নত সভ্য দেশেও এই সমস্যাটা কিন্তু রয়েছে। এর বিরুদ্ধে আরও জনমত সৃষ্টি করা দরকার।” নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে জনসচেতনতার উপর জোর দেন তিনি।

“একটা কথা মনে রাখতে হবে, শুধু আইন করলে সহিংসতা বৈষম্য দূর হবে না। এজন্য সমাজের সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে দরকার।” দেশকে গড়ে তুলতে নারী-পুরুষ সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “একটা কথা মনে রাখতে হবে, সমাজের অর্ধেক যেখানে নারী, তাদের বাদ রেখে একটা সমাজ কখনও গড়ে উঠতে পারে না। সে ক্ষেত্রে সকলকে এক হয়ে কাজ করা সব থেকে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।”

বক্তব্যের শেষে শেখ হাসিনা বলেন, “যে সম্মাননাই পাই না কেন সবই আমার দেশের মানুষের। আজকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যেই সম্মাননাটা পেয়েছি, সেটা আমি উৎসর্গ করে যাচ্ছি আমার বাংলাদেশের মা-বোনদের, বিশ্বের সকল নির্যাতিত নারীদের।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা প্রথম যে সংবিধান দিলেন সেখানে তিনি মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসন দেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন মেয়ে যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা অর্জন করে তাহলে সমাজে তার ভালো অবস্থান হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে জুডিশিয়াল সার্ভিসে কোনও নারী চাকরির সুযোগ ছিল। বঙ্গবন্ধু এই আইন বাতিল করে দিয়েছেন। ‘৯৬ সালে উচ্চ আদালতে একজনও নারী বিচারক ছিলেন না। ওই সময় নাজমুন আরা ছিলেন জেলা জজ ছিলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে তাকে হাইকোর্টে নিয়ে আসি। এরপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলে তার ১০ শতাংশ কোটায় জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার আইনে সংরক্ষিত আসন করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন অনেক ধর্মীয় নেতা নারী শিক্ষার বিরোধিতা করে। আমি তাদের বলতে চাই বিবি খাদিজা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনিই প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। কোনও পুরুষ তখন সাহস করেননি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীতে এখন অনেক নারী কাজ করেন। এমনিতে নারী পাইলট আছেন। আগামীতে বিমান বাহিনীতে ফাইটার জেট চালাবে নারীরা। নৌবাহিনীতে আমাদের মেয়েরা সবচাইতে ভালো কাজ করছেন। সেনাবাহিনীতে একসময় মেয়েদের জায়গা ছিল না। ৯৬’ সালে আমি এসে সব চালু করে দেই। এক সময় কোনও নারী সচিব ছিল না। আমি প্রথম কয়েকজন নারীকে সচিবের পদমর্যাদা নেই। জেলা ডিসি, এসপির পদে মেয়েদের বাধা ছিল। তখন একটা প্রশ্ন ছিল, মেয়েরা কীভাবে এসপি হবে? আমি যাকে প্রথম নারী এসপি করে মুন্সীগঞ্জে আনলাম তিনি দায়িত্ব নিয়েই ডাকাত ধরে ফেললো। তার এ কাজের সঙ্গে আমিও জয়ী হয়ে গেলাম। আজকে শান্তি রক্ষা মিশনেও অনেক ভালো কাজ করছে, পারদর্শিতা দেখাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছিল ৩ মাস। এর মধ্যে এক মাস বেতন পেতেন। পরে আমি ক্ষমতায় এসে প্রথমে মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস করি। পরে বেতনসহ ৬ মাস ছুটি দিয়েছি।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১