আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকার বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে দাউদাউ করা ভয়ঙ্কর আগুনে পুড়েছে বহুতল ভবন এফআর টাওয়ার। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন। আগুন লাগার পর থেকেই ভবনে অবস্থান করা মানুষগুলো যখন জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলো, তখন নিচে দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের অনেকই আহাজারি করছিলেন। আবার কেউবা তুলছিলেন ছবি।
হাজারো উৎসুক জনতার মাঝে একটি ছবি নজর কেড়েছে সবার। একটি ছোট্ট শিশু ফায়ার সার্ভিসের ফাটা পাইপ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া পানি আটকে রাখার চেষ্টা করছে। শিশুটির চোখে-মুখে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। বৃহস্পতিবার (২৮মার্চ) থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার ছবি। পাইপ চেপে ধরা ছবিটি কখন তোলা হয়েছে সে নিজেও জানে না। তবে এক অসহায় মুহূর্তে ছোট শিশুর এই সহায়তার মানসিকতা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ময় তৈরি করেছে। এই কাজের জন্য সবাই শিশুটিকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।
ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে থাকেন তারা। কিন্তু পানি দেওয়ার সেই পাইপ ফুটো থাকায় কাজে ব্যঘাত ঘটে। বিষয়টি চোখে পড়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতা করতে পলিথিন দিয়ে সেই ফুটো বন্ধ করার চেষ্টা করে নাঈম নামে এক শিশু। তবুও ফুটো দিয়ে পানি বের হতে থাকলে পাইপের সেই পলিথিন জড়ানো স্থানে হাত ও পা দিয়ে শক্ত করে ধরে থাকে সে, যাতে এখান দিয়ে কোনো পানি না বের হয়।
কড়াইল বস্তিতে বাবা-মা ও এক বোনের সঙ্গে বসবাস তার। স্থানীয় আরবান স্ল্যাম আনন্দ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সে। আগুনের খবর শুনেই বনানীতে ছুটে আসা নাঈম জানায়, তার বাবা রুহুল আমিন বনানীতে ডাব বিক্রি করেন। তাই আগুনের খবর শুনে বনানীতে ছুটে আসে নাঈম। আসার পর ভিড় ঠেলে আগুন লাগা এফআর টাওয়ারের সামনে চলে আসে। এসে নিজ তাড়নাতেই ফায়ার সার্ভিসের পাইপ ধরে অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করে।
এরপর যখন ভবনের গ্লাস ভেঙে পড়ে তখন অন্যরা নাঈমকে দূরে সরিয়ে নেয়। গ্লাস ভাঙা একটু কমতেই নাঈম দেখে একটি পানির পাইপ ফেটে তা থেকে পানি বের হয়ে যাচ্ছে। তখন পাশ থেকেই একটি পলিথিন কুড়িয়ে তা দিয়ে পাইপের ফাটা অংশটি চেপে ধরে নাঈম।
নাঈম বলে, আমি কোন ভয় পায়নি, ওই সময় আল্লার কাছে সবাই দোয়া করছিলো ভেতরের মানুষগুলা যেন বাঁচে। আমিও চাইছিলাম একটু সাহায্য করে যদি কাউকে বাঁচানো যায়। রে আমার বাপে আমারে নিয়া যায়। রাইতে আমার ছবি ইন্টারনেটে দ্যাখছে আমার বাড়িওয়ালা, সেই আমার বাবা-মায়রে দেখাইছে।
মানবিক এই শিশু নাঈম বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হতে চায় জানিয়ে সাংবাদিকদের জানায়, আমি পড়ালেখা করতে চাই। অনেক পড়াশোনা কইউরা আমি বড় পুলিশ অফিসার হইতে চাই।