আকাশবার্তা ডেস্ক :
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ভুয়া সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ বন্ধ করতে কঠোর হচ্ছে সরকার। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতার আওয়ায় আনতে নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোকে ভুয়া খবর প্রকাশ বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শনিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর মৌচাকে কসমস সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। কসমস ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইনায়েতুল্লাহ খান। বক্তব্য রাখেন, সিংগাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্ট্যাডিসের (আইএসএএস) প্রধান গবেষক ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড ইন্টারনেট ডেমোক্রেসির প্রেসিডেন্ট ডান শেফেট।
আইনমন্ত্রী বলেন, ভুয়া সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করছে। সাইবার আদালত গঠন এবং গুজব প্রতিরোধ ও অবহিত করণ সেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনলাইন নিউজপোর্টাগুলোও নীতিমালার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকার।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোকে পাঠকদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে হবে, যাতে তারা সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর না হয়। সংবাদ মাধ্যমগুলোর সত্য এড়ানোর প্রবণতা, নিরব থাকার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষের সত্য জানার পথ যেখানে বন্ধ হয়ে না যায়।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে পাঁচটি উদ্দেশ্যে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িক গুজব ছড়ানো, উগ্র রাজনৈতিক ধর্মীয় মিথ্যাচার প্রচার, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং অবৈজ্ঞানিক জল্পনা-কল্পনাপ্রচার করার জন্য। এসব উদ্দেশ্যের মধ্যে পাঁচ নম্বর কারণ ক্ষতিকর না হলেও বাকি চার কারণে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
একটি উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, এর আগে রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা, পাবনার বনগ্রাম বাজারে হামলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য কিভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নামে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে ঢাকা শহরকে অচল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, সেটাও আমাদের মনে আছে।
ভুয়া খবরের প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে বিটিআরসি, আইসিটি বিভাগ, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে সরকারের একারপক্ষে এতে সফল হওয়া সম্ভব নয়। সরকারের পাশপাশি মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।