আকাশবার্তা ডেস্ক :
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে শিক্ষকের অবহেলায় চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি নূপুর বালা নামে এক পরীক্ষার্থী। নূপুর পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলার বাসুড়িয়া গ্রামের গোবিন্দ বালার মেয়ে ও কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী।
অভিযোগে জানা গেছে, কলেজ ছাত্রী নূপুর বালা চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে কলেজের গত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু সে দুই বিষয় অকৃতকার্য হয়।
এসময় একই কলেজের সাচিবিক বিদ্যার শিক্ষক মানিক মজুমদার ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের জানায়, তাকে ৭ হাজার টাকা দিলে ফরম পূরণ করে দিতে পারবেন তিনি।
ওই ছাত্রীর বাবা গোবিন্দ বালা মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ৭ হাজার টাকার স্থলে ৬ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এক পর্যায় তিনি ওই শিক্ষককে ফরম পূরণের জন্য ৫ হাজার টাকা দেন। শর্ত থাকে বাকি এক হাজার টাকা প্রবেশপত্র নেয়ার সময় দিতে হবে।
পরীক্ষার তিন দিন আগে ওই ছাত্রী প্রবেশপত্র আনতে কলেজে গেলে শিক্ষক মানিক মজুমদার তাকে বলে তুই আজ চলে যা। দুই দিন পর তোর বাবা কলেজে এসে প্রবেশপত্র নিয়ে যাবে। দুই দিন পর শিক্ষক মানিক মজুমদার ফোন করে ওই ছাত্রীকে জানায় তোমার ফরম পূরণ হয়নি।
ওই ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি সবাই কাছ থেকে আর্শিবাদ চেয়ে বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র এলাকায় চলে গেছে ওই ছাত্রী। ফরম পূরণ হয়নি জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ফলে নূপুরের পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষক মানিক মজুমদার এ রকম আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রীর বাবা দরিদ্র কৃষক গোবিন্দ বালা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘অভাব-অনটনের সংসার। কৃষি কাজ করে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে মেয়েটাকে লেখাপড়া করাচ্ছি। কিন্তু কলেজ শিক্ষক মানিক মজুমদারের অবহেলার জন্য আমার মেয়েটা পরীক্ষা দিতে পারলো না। আমি এর বিচার চাই।’
পরীক্ষার্থী নূপুর বালা বলেন, ‘গত সোমবার থেকে আমার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমি পরীক্ষা অংশ নেয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কিন্তু মানিক স্যারের অবহেলার কারণে পরীক্ষা দিতে পারলাম না। আমার জীবন থেকে যে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। তা ফিরিয়ে দেবে কে? আমি কৃষকের সন্তান। আমার বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে লেখাপড়া করাচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে শিক্ষক মানিক মজুমদারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ওই ছাত্রীর ফরম ফিলাপের ব্যাপারে কিছু জানি না এবং নূপুর নামে কাউকে চিনি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।’
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ,এস, এম মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’