আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিগত সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের কারণে ইতোমধ্যে দেশের ভেতরে-বাইরে প্রশংসা কুড়িয়েছে দলটি। অথচ দেশের অধিকাংশ উপজেলায় নেই ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব দলীয় কার্যালয়। যেসব উপজেলায় দলীয় কার্যালয় নেই, ওই উপজেলায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ভাড়া করা ভবনে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় নেতাদের বাসায়ও চলে দলীয় কার্যক্রম।
এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, আগামী জাতীয় সম্মেলনের আগেই ওই সব উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথ্য মতে, শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলা। জেলায় মোট তিনটি সংসদীয় আসন। এখান থেকে বারবার নির্বাচিত হয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তবে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে তার নির্বাচনি এলাকা (নকলা-নালিতাবাড়ী) উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় নিজস্ব কোনো কার্যালয় করতে পারেননি।
অভিযোগ আছে, সাবেক ওই মন্ত্রী নকলা জোড়াপাম্প এলাকায় তার ভাগিনার বাসায় বসে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। শুধু তিনি নন, ওই উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিজ বাসভবন বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই দলীয় কর্যক্রম পরিচালনা করেন। একই অবস্থা ঝিনাইগাতী উপজেলাতেও। ঝিনাইগাতী বাজারেই সাবেক জেলা আ.লীগ নেতা মরহুম জমসেদ আলী প্রায় ১৫ বছর আগে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে ওই উপজেলায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। জেলার আরেক উপজেলা শ্রীবরদী। সেখানে বর্তমান উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটনের বাসায় চলছে উপজেলা আ.লীগের কার্যক্রম।
একই অবস্থা শেরপুর জেলা সদরেও। জেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বর্তমানে দুই গ্রুপ দুটি আলাদা অফিস ভাড়া নিয়ে জেলা আ.লীগের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শেরপুর জেলা আ.লীগে অন্তর্কলহ রয়েছে। যার কারণে ১৯৯৬ সালে সরকার এবং ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অদ্যাবধি এখনো পাঁচ উপজেলার কোথাও কোনো নিজস্ব দলীয় কার্যালয় করতে পারেনি। শুধু শেরপুর জেলাতেই নয়, দেশের অনেক জেলা ও উপজেলায় আ.লীগের নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই। ভাড়া করা ও স্থানীয় নেতার বাসায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে সব জেলা-উপজেলায় আ.লীগের নিজস্ব কার্যালয় নেই তার মধ্যে- গাইবান্ধা জেলার মোট সাতটি উপজেলা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়। এখানে ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাতে নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই।
সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান বিপ্লব ও সাদুল্লাপুর উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি প্রভাষক আব্দুল জলিল বলেন, এ উপজেলায় নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় সাদুল্লাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে উপজেলা শাখা কার্যালয় স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
একই অবস্থা লক্ষ্মীপুর জেলায়ও। জেলাটির পাঁচটি উপজেলায় নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই। বছর দুয়েক আগে রামগঞ্জ পৌরসভার কাঁচাবাজার সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দখলি জায়গায় একটি কার্যালয় ছিল। পরে সেটি প্রশাসন ভেঙে দেয়। বর্তমানে পৌর শহরের কলাবাগান রোডে স্থানীয় এমপি আনোয়ার হোসেন খাঁনের মালিকানাধীন ভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে আ.লীগের কার্যক্রম চলছে। রায়পুরেও নেই নিজস্ব কার্যালয়। পৌর আ.লীগের আহ্বায়ক জামসেদ কবির বাক্কী বিল্লাহ ও উপজেলা আ.লীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ ব্যক্তিগত চেম্বারে বা বাসায় দলীয় বৈঠকসহ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। লক্ষ্মীপুর জেলায়ও একই অবস্থা। জেলা শহরের মাদাম ব্রিজ সংলগ্ন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে দলীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রামগতিতেও নেই কোনো কার্যালয়। সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে দলীয় সভাসহ কার্যক্রম চালাতেন। কমলনগরেও নেই আ.লীগের নিজস্ব কার্যালয়। উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজারের একটি ভাড়া ভবনে দলীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ত্রিশাল, ফুলপুর, ধোবাউড়া, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ও গফরগাঁওয়ে নেই আ.লীগের নিজস্ব কার্যালয়। ওই উপজেলাগুলোতে ভবন ভাড়া নিয়ে অস্থায়ীভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্থানীয় নেতারা। জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা আ.লীগের কার্যক্রম চলছে সভাপতির বাসায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ছয় উপজেলায় দলীয় কার্যক্রম ভাড়া করা রুমে চলছে। উপজেলাগুলো হলো- আশুগঞ্জ, সরাইল, আখাউড়া, কসবা, বিজয়নগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর। জেলাটির দলীয় কার্যালয় বর্তমানে ভাড়া ভবনে চালাচ্ছেন জেলা আ.লীগের নেতাকর্মীরা। ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলা, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের দলীয় কার্যক্রম ভাড়া রুমে পরিচালিত হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলার আট উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব কার্যালয় নেই। উপজেলাগুলো হলো- হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, হাইমচর ও ফরিদগঞ্জ। কুমিল্লা জেলার ১৭ উপজেলার মধ্যে সাত উপজেলায় নিজস্ব কার্যালয় নেই। সেগুলো হলো- মনোহরগঞ্জ, মেঘনা, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, মুরাদনগর ও বরুড়া। সেখানে স্থানীয় নেতা ও ভাড়া বাসায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। টাঙ্গাইল জেলার চার উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই। উপজেলাগুলো হলো- মর্জাপুর, ভূঞাপুর, নাগরপুর ও বাসাইল। মুন্সিগঞ্জ জেলার একটি উপজেলায় আ.লীগের নিজস্ব কার্যালয় নেই। এ ছাড়াও ৪৫টি জেলায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, টানা তৃতীয় মেয়াদে আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলেও অনেক স্থানে নিজস্ব কার্যালয় করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রেগুলো বলছে, মন্ত্রী-এমপির পাশাপাশি স্থানীয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এসব উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলটির নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই। তবে নিজস্ব কার্যালয় না থাকার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।শেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন পাল আমার সংবাদকে বলেন, উপজেলাগুলোতে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করার জন্য ইতোমধ্যে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা অবগত করেছি।
আশা করি, পার্টির নিজস্ব ভবন করার জন্য তিনি উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন। তিনি বলেন, উপজেলাগুলোতে ভাড়া রুমে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর জেলা আ.লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু আমার সংবাদকে বলেন, আ.লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলের নিজস্ব পার্টি অফিস না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে পার্টি অফিস নির্মাণ করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে চিঠি পেয়েছি। আশা করছি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় পার্টি অফিস নির্মাণ করতে পারব।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।