নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজনৈতিক দলের আদর্শ উপস্থাপনের চেয়ে ব্যক্তিকে তুলে ধরা বা বড় ভাইয়ের আজ্ঞাবহ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাটাই যেন প্রাণান্তকর চেষ্টা। এনিয়ে চলছে রীতিমত প্রতিযোগিতা। ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর সফর উপলক্ষে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রচারণায় তেমনটি ফুটে উঠে। কিন্তু ব্যতিক্রমী একটি বিলবোর্ড সবার নজরে আসে হাজিরপাড়ায়। এ বিলবোর্ডটি অনেক বড় কিন্তু অন্যান্য বিলবোর্ড থেকে আলাদা। খুবই নান্দনিক ও নজরে আসার মতো স্থানে স্থাপন করা হয়। বিলবোর্ডটি যিনি লাগিয়েছেন তিনি হাজিরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া।
জানা যায়, “দুঃসময়ের সাহসী আওয়ামীলীগ ও নৌকা মার্কার ভোটারদের মিলন মেলা নামক” একটি সামাজিক অর্গানাইজেশন এর প্রধান তিনি। পেশাগতভাবে আনোয়ার একজন গ্রাপিক্স ডিজাইনার। ডিজিটাল সাইন ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি নিজেই এই বিলবোর্ডের জিজাইনার। বিলবোর্ডের লেখাগুলো নিজের শ্রদ্ধাবোধ থেকেই উৎসর্গ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব ও শেখ হাসিনার প্রতি।
বিলবোর্ডটিতে শ্যামল বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যা আদর্শিক রুচিশীল রাজনৈতিক নেতাদের অনুকরণ ও অনুসরণের নমুনা হতে পারে। বিলবোর্ডটি প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আগত কেন্দ্রীয় অনেক নেতার চোখে পড়েছে বলে জানান অনেকে। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যতিক্রমী বিলবোর্ডটি দেখে প্রশংসা করেন।
এক স্বাক্ষাতকারে আনোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, রাজনৈতিক সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, পেস্টুন টাঙ্গিয়ে কথিত নেতা বা ভাইয়ের আজ্ঞাবহ হওয়ার জন্য জাতীয় নেতাদের ছবিগুলোকে তুলনামূলকহারে ছোট করে নিজের ছবি আর ভাইয়ের ছবিকে পুরো দস্তুর সম্পূর্ণ প্রচারপত্রে অশোভন আকৃতিতে ছাপানো হয়। এমনকি উপলক্ষের শিরোনামকেও ছোট করে ভাইয়ের নাম এবং নিজের নাম বড় করে দলের মূল আদর্শ আর ভাবার্থকে ম্লান করে দেওয়া হয়। এরকম অসংগতি, হীনমন্যতা এবং শৈল্পিকতা আর নান্দনিকতা বিহীন সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে সারাদেশে। বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।