আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে উদ্যাপনের দিনে সিরিজ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৩৮ জন নিহত হয়েছে। আহত ২০০ জনের বেশি। বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।আজ রোববার সকালে ইস্টার সানডের আয়োজন ঘিরে রাজধানী কলম্বো ও তার পাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে এই বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুজন বিদেশি আছেন। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, যে দুজন বিদেশি নিহত হয়েছেন, তাঁরা কোন দেশের নাগরিক, তা শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
শ্রীলঙ্কান সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উদযাপন করা হচ্ছিলো গির্জাগুলোতে। এর মাঝে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি চার্চে বোমা হামলা হয়।
এর আধাঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্টিন চার্চ ও ২৫০ কিলোমিটার দূরে বাট্টিকালোয়ার জিওন চার্চেও বোমা হামলা চালায় দৃর্বৃত্তরা।
এছাড়া রাজধানী কলম্বোর কিংসবারি, সাংগ্রিলা এবং সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলেও তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই হোটেলে অসংখ্য বিদেশি নাগরিক ছিলেন।

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বলছে, পৃথক হামলায় এ পর্যন্ত ১৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আর ২০০ জনের বেশি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে, সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ কর্তপক্ষ হামলার পরের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, চার্চের ভেতর বোমা বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে ও মেঝেতে রক্তের দাগ লেগে আছে।
কিছু গণমাধ্যমে নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাটিকালোয়ার হাসপাতাল সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, শুধু সেখানেই নিহত মানুুষের সংখ্যা ২৭।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, শুধু নেগোম্বোতে নিহত মানুষের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তাঁদের একটি রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছেন।বিস্ফোরণের ধরন এখনো পরিষ্কার নয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার পর শ্রীলঙ্কার স্কুল-কলেজ দুদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।