আকাশবার্তা ডেস্ক :
অনেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের যোগসাজশ থাকার সন্দেহ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। কারও মদত বা উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে আমরা আসিনি। অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছিল আমাদের ওপর। সামনেও আসবে, তারপরও আমরা এগিয়ে যাবো। দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের কার্যক্রম ওপেন শুরু করলাম, সামনে বাধা আসলে কৌশলে থাকবো, কিংবা অধিকার নিয়ে রাজপথে। আমাদের এই দলের যদি তাৎপর্য থাকে তাহলে অবশ্যই তরুণ প্রজন্ম আমাদের সঙ্গে থাকবে।
জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ শ্লোগানে এবং স্বাধীন সত্তার বিকাশে অধিকার ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি এ মূল ধারাকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু করে জামায়াতে ইসলামী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর এসব কথা বলেন। আজ রাজধানীর হোটেল-৭১ সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলের উদ্যেগের এমন ঘোষণা দেন। তাঁর সঙ্গে এক মঞ্চে আসেন, মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল কাদের, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়র অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, অধ্যাপক আবদুল হক, গোলাম ফারুক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা নূর, নাজমুল হুদা অপু, মো. সালাউদ্দিন, ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আবদুল হক, নুরুল ইসলাম ভূইয়া ছোটন, গৌতম দাশ, রুবী আমাতুল্লাহ, সুকৃতি কুমার মণ্ডল, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার দায় স্বীকারের আহ্বান জামায়াত নেতৃত্ব অগ্রাহ্য করেছে জানিয়ে মঞ্জু বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, তখনো কিছু মানুষ রাজনৈতিকভাবে পক্ষ অবলম্বন করেছিল পাকিস্তানের! দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতীয় ঐক্যের ওইশীর্ষবিন্দুতে, ঐতিহাসিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও ক্ষুদ্রএকটি অংশ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সমর্থন দিতে এবং তাতে অংশগ্রহণে ব্যর্থহয়েছিল। কতিপয় ধর্মীয় দল ও বামপন্থীদের একটি ধারার সেই ব্যর্থতা জাতীয় ইতিহাসে এক মলিন অধ্যায় ও ক্ষত সৃষ্টি করেছে।মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একমাত্র দল না হলেও পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আর দলীয় ভূমিকা নিয়েই বেশি প্রশ্ন ওবিতর্কতৈরি হয়েছে। দল হিসেবে জামায়াত মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দলীয় ভূমিকার জন্য দায়দায়িত্ব স্বীকার এবং ঐতিহাসিক ক্ষত উপশমে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবিকে বরাবরই অগ্রাহ্য করেছে। এই রাজনৈতিকঅবস্থানের বোঝা ৭১ পরবর্তী প্রজন্মের বহন করা উচিত নয় বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সকলের গর্বিত রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। একে বিভেদ, বিভক্তি ও সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহারের যেকোনো প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। একইসাথে ইতিহাসের মীমাংসা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে সমস্ত অভিযোগ তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
লিখিত বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, আমরা প্রচলিত কোনো রাজনৈতিক ধারা বা দলের অনুসারী কিংবা অনুরক্ত নই। এটা সম্পূর্ণ স্বাধীন উদ্যোগ, একটি স্বতন্ত্র ধারা। জামায়াতে ইসলামীসহ বিদ্যমান কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
যারা আমাদের সাথে সরাসরি যুক্ত হবেন কিংবা চিন্তা ও কর্মপন্থায় ঐক্যমত পোষণ করবেন, তাদের সকলকে নিয়ে এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। আলোচনা, পর্যালাচোনা করে আমরা সংগঠনের নাম, কাঠামামো, কর্মপদ্ধতি, লক্ষ্য ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করব। আজ থেকে সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ শুরু হলো। মঞ্জু বলেন, আমরা আশাবাদী, যথাসময়ে একটি ইশতেহার, সাংগঠনিক কাঠামো এবং এতে যুক্ত নেতৃবৃন্দের কার কী দায়িত্ব- তা জানাতে জাতির সামনে হাজির হতে পারব। যার ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে স্বাধীন সভায় বিকশিত হওয়ার রাজনীতি; মানবিক সম্ভাবনার বিকাশ, সমৃদ্ধ ও কল্যাণরাষ্ট্র নির্মাণের সামষ্টিক সংগ্রাম। এই রাজনৈতিক দল হবে সত্যিকার অর্থে ইনসিভ ও একটি ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার নতুন রাজনৈতিক কার্যক্রম।
মজিবুর রহমান মনজু বলেন, ‘ঔপনিবেশিক শাসনামলেও দুবার গভীর সংকটকালে জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছিল মুসলিম লীগ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ। আর স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে হাল ধরেছিলেন জিয়াউর রহমান। প্রায় চার যুগ পরে আজ আবার প্রিয় মাতৃভূমি তেমন আরেক বাক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে। একাত্তরে যে আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন হয়েছিলো বাংলাদেশ, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়ার দায়িত্ব বোধ করছি আমরা।’
নতুন দলের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে মনজু বলেন, ‘আগামীতে আমরা সংগঠনের নাম, কাঠামো, কর্মপদ্ধতি ও লক্ষ্য চূড়ান্ত করবো। সেই লক্ষ্যের পাঁচটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তা হলো– রাজনৈতিক প্রস্তাবনার খসড়া কমিটি, জনসংযোগ ও অন্তর্ভুক্তি তত্ত্বাবধান, গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক, অর্থ সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা এবং পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তাবনা, কর্মকৌশল এবং পরিকল্পনা কমিটি গঠন।’ আপাতত এই উদ্যোগ সমন্বয়কের দায়িত্ব এই নাখান্দাকে দেওয়া হয়েছে, ’বলেও জানান মঞ্জু ।
কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে সাংবাদিকেরদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি আসব। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাংবাদিকের সহযোগিতা কামনা করছি আমরা।’লন্ডনে থাকা জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত নন দাবি করে মঞ্জু বলেন, ‘আমরা অনেকের কাছ থেকেই পরামর্শ নিয়েছি। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকেও পরামর্শ নিয়েছি। তবে নতুন দল গঠনের এই উদ্যোগের সঙ্গে রাজ্জাকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’