শনিবার ৩০শে মে, ২০২৬ ইং ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা

বেগমগঞ্জে গৃহবধূ বিউটি হত্যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা : পুলিশের নিস্ক্রিয়তা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ বিউটি আক্তার হত্যার একমাস পরও মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে খুনিদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখ সকালে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউপির হরিভল্লবপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ দিকে বিউটি হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী একমাত্র স্বাক্ষী নিহতের ৫ বছর বয়সী শিশু সন্তান আরাফাত ইসলাম বাপ্পীর জীবনও সঙ্কটাপন্ন। তাকে কয়েকবার তার নানার বাড়ি থেকে খুনিরা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে নিহত বিউটির পরিবারের সদস্যরা জানায়। বিউটি আক্তার লক্ষ্মীপুরের দেওপাড়া গ্রামের আব্দুর রবের মেয়ে।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) নিহত বিউটি আক্তারের ভাই মো. বাবলু ও আপন খালু মো. সালাহ্ উদ্দিন জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ডাক্তার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাল্টে ফেলেছেন। ডাক্তার বিউটির হত্যাকে আত্মহত্যা বলে রিপোর্ট দেন। তারা বলেন, যদি ঘটনাটি আত্মহত্যাই হয় তাহলে খুনিরা সবাই এখনও বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন কেন? তারা অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তার যোগসাজসে বিউটির হত্যাকান্ড আত্মহত্যা বলে ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বলেন, লাশের সুরতহাল রিপোর্টে মৃতদেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে উল্লেখ করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তা লেখা হয়নি।

নিহতের ভাই মো. বাবলু জানায়, ৭ বছর আগে আপন খালাত বাহার উল্যার সাথে আমার বোন বিউটির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে তার বাড়িতে থাকার বসতঘরটি সম্পর্ণ আমাদের খরচে করে দিয়েছি। এরপরও বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য আমার বোনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বাবলু জানায়, তার ভগ্নিপতির স্বভাব-চরিত্র খারাপ। রাতে বিভিন্নস্থানে তাস-জুয়া খেলে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে। এতে আমার বোন তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হতো। বাবলু আরো জানায়, ঘটনারদিন বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক আনার জন্য আমার বোনকে চাপ দেওয়া হয়। এতে আমার বোন অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্বামী বাহার উল্যা, ভাইর বউ মারজাহানসহ শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে আমার বোনকে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালায়।

নিহত গৃহবধূ বিউটির একমাত্র সন্তান ও হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী আরাফাত ইসলাম বাপ্পী (৫) সাংবাদিকদের জানায়, তার মাকে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ রশি দিয়ে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ কথা বলে শিশু আরাফাত কাঁদতে থাকে।

এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ থানার এসআই মাঈন উদ্দিন জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যা হিসেবে থানায় ডাক্তারী প্রতিবেদন এসে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় এটি আত্মহত্যা হিসেবে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ না থাকলে হত্যা মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ভিকটিম পরিবার চাইলে আদালতে নারাজি আবেদন করতে পারেন।

নিহত গৃহবধূ বিউটির আক্তারের পরিবারের দাবি, এ হত্যায় জড়িত খুনিদের গ্রেফতার এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যেন এগিয়ে আসেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মে ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১