রবিবার ৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেড়েছে চিনি ছোলা ও পেঁয়াজের দাম

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :

সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে চিনি, ছোলা ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি চিনিতে পাঁচ-ছয় টাকা, পেঁয়াজ পাঁচ-ছয় টাকা আর ছোলার ডাল আট থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। আগের মতোই বেশ চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। তবে স্বস্তি দিয়েছে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম। রোজার সময় চিনির চাহিদা বেড়ে যায়। আর এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও মিলগুলোতে প্রচুর চিনি মজুদ রয়েছে।

পাশাপাশি আমদানি করা চিনিরও কোনো ঘাটতি নেই। বিশ্ববাজারে যেখানে চিনির দাম কমছে, সেখানে দেশের বাজারে চিনির দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। তবুও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চিনির জন্য বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। মোহাম্মদপুর টাউন হলের মুদি দোকানি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এক মাস আগেও প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৫০-৫২ টাকা। বর্তমানে তা ৫৫-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে পাইকারি বাজারে চিনির দাম বাড়েনি। বরং আগের চেয়ে কেজি প্রতি প্রায় এক টাকা কমেছে বলে দাবি তাদের। বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, বর্তমানে দেশের বাজারে চিনির কোনো ঘাটতি নেই। মিলগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি মজুদ রয়েছে।

আমদানিকারকদের কাছেও প্রচুর চিনি রয়েছে। কিন্তু রোজার আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। পরিবহনজনিত ব্যয় কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে হয়তো কেউ কেউ একটু বেশি দামে বিক্রি করছে। গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের ডালের দামও বেড়ে গেছে। প্রতি কেজি ছোলার দাম আট থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। মসুর ডাল ও খেসারি ডালের দামও কেজিতে চার-পাঁচ টাকা বাড়তি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৮৫-৯০ টাকা, মসুর ডাল ৯০-১০০ টাকা ও খেসারির ডাল ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পাইকারি বাজারে যেখানে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম এক-দুই টাকা কমেছে, সেখানে খুচরা বাজারে আগের চেয়ে আরও চার-পাঁচ টাকা বেড়ে গেছে। রাজধানীর শ্যামবাজারে পাইকারি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২১-২২ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ১৭-১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এসে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

হাতিরপুল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০-৩২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে রসুনের দাম কিছুটা কমেছে। দেশি ও চীনা উভয় রসুনের দামই কেজি প্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ও মুরগির মাংসের দাম কম থাকায় স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের। প্রতি ডজন ডিম ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগি কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে ১৫০-১৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দামও। মাছের বাজারও গত সপ্তাহের মতো স্থিতিশীল রয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১