আকাশবার্তা ডেস্ক :
চলন-বলন ও স্বভাবের সাথে মিল রেখে ষাড় গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘খোকা বাবু’। গরুটির মালিক টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় নঙ্গীনা বাড়ির আবুল কাশেম মিয়া। খোকা বাবুর ওজন প্রায় ১০০০ কেজি। আসন্ন কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য ১৫ লাখ প্রত্যাশা করছেন।
খোকাবাবুর মালিক কাশেম মিয়া জানান, আমি কৃষকের সন্তান। গরুর ফিট খাবার খাওয়ানো সাধ্য নেই। তাই দুই বছর আগে দুই দাতের খোকাকে ক্রয় করে নাগরপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ডা. মোঃ ফায়েজুর রাজ্জাক আকন্দ স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি।
স্যার বলেলন- আপনি গরুর ওজন এবং প্রয়োজন মতো প্রাকৃতিক সুষম খাবার খাওয়ালে অর্থ ও ঝুঁকি দুটোই কমবে এবং নিরাপদ মাংস উৎপাদিত হবে।
তিনি বলেন, সেই পরামর্শ মতোই প্রস্তুত করি খোকার খাদ্য তালিকা। এর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন ধরণের সবুজ ঘাস, গাছের পাতা, খড়, ভূষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, সরিষার খৈল, নালি, চাউলের কুড়া, লবণ আর পরিমাণ মত পানি।
নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার ঘরে রাখা, বাবুর ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেয়া ও কৃমির ঔষধ খাওয়ানো এ সকল বিষয় স্যারের পরামর্শেই আজ খোকা বাবু নাগরপুরে চমক দিতে চলেছে।
গরু মোটা তাজাকরণের ঔষধ ও ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি জানিয়ে কাশেম বলেন, খোকার ওজন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ মত সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারেই লালিত পালিত। বিজ্ঞানসন্মত সঠিক পরিচর্যায় ৪ বছরের খোকা বাবু প্রাকৃতিক খাদ্যেই আজ ১০০০ কেজি ওজনের হয়েছে।
খোকা বাবুর বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের (ভি.এস) ডা. মোঃ ফায়েজুর রাজ্জাক আকন্দ জানান, উপজেলা লেভেলে বড় গরুর চাহিদা মেটাতে কাশেম মিয়ার উদ্যোগ সত্যিই প্রসংশার দাবি রাখে। তিনি দুই বছর যাবৎ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ মাংস উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
গরু মোটা তাজাকরণের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে আমাদের বিজ্ঞানসম্মত নিবিড় পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক সুষম খাদ্য ও কাশেমের প্রচেষ্টায় খোকা বাবু আজ প্রায় ১০০০ কেজি হয়েছে। তার কাজের মূল্যায়ন হলে তিনিসহ অনেকেই উৎসাহিত হবে স্বল্প খরচে গরু পালনে। এতে করে নিরাপদ মাংসের উৎপাদন বাড়বে।