বিনোদন ডেস্ক :
পনেরো আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনও অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেসা ও শেখ রাসেল-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মোট তিনটি মিউজিক্যাল ফিল্ম মুক্তি দিতে যাচ্ছে। এর আগে, বাংলাদেশের কোনও প্রতিষ্ঠান এ ধরণের উদ্যোগ নেয়নি।
এ সময়ের অন্যতম সেরা গীতিকার ও সুরকার সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী’র কথা ও সুরে ‘আসবেনা ফিরে জানি’, ‘পাইনা তোমার দেখা বঙ্গমাতা’ এবং ‘ওরে রাসেল কইরে আমার প্রানের ভাইটা কই’ এই তিনটি গানে কন্ঠ দিয়েছেন যথাক্রমে অনুপমা মুক্তি, কনিকা রায় ও মিতা মল্লিক। এগুলোর সঙ্গীতায়জন করেছেন এরফান টিপু এবং কাজী জামাল। এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ‘আসবেনা ফিরে জানি’ গানের আরেকটি সংস্করণে কন্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ও ক্লোজআপ তারকা সাব্বির জামান।
‘আসবেনা ফিরে জানি’ গানের মিউজিক্যাল ফিল্ম নির্মাণ করেছেন খ্যাতিমান চিত্রগ্রাহক তপন আহমেদ। আর বঙ্গমাতা’র ও শেখ রাসেলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা গানগুলোর মিউজিক্যাল ফিল্ম নির্মাণ করেছেন চিত্র পরিচালক তাজুল ইসলাম।
গানগুলো সম্পর্কে সঙ্গীত পরিচালক এরফান টিপু বলেন, গানগুলোর কথা ও সুর অসাধারণ। এ সময়ে সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী’র সমকক্ষ কোনও গীতিকার ও সুরকার বাংলাদেশে নেই। ওনার লেখা গানের কথা ও সুর আমায় বারবার ওই স্বর্ণ যুগের গানের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এমন এক মহতী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। আমি নিশ্চিত, এগানগুলো ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয় হবে। তবে এক্ষেত্রে আমি আশা করবো বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারে যেন গানগুলো চালানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সব বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ও এফএম রেডিওগুলোর প্রতিও আমার অনুরোধ রইলো ওঁরা যেনো গানগুলো প্রচার করেন।
ওপর সঙ্গীত পরিচালক কাজী জামাল বলেন, শোয়েব চৌধুরী’র গানের কথা ও সুরে এক চমৎকার মায়াবী যাদুর পরশ থাকে। এ তিনটি গানেও তা আছে। ক্রাউন মিউজিক-এর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবী রাখে। বাংলাদেশের আর কোনও অডিও প্রযোজনা কোম্পানী তো এ ধরনের উদ্যোগ আগে কখনও নেয়নি। আমি বিশ্বাস করি, গানগুলো মানুষের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ও শেখ রাসেল-এর প্রতি নিঃসন্দেহে এগুলো সেরা শ্রদ্ধাঞ্জলি হবে।
বঙ্গবন্ধু’র অপর নির্মিত মিউজিক্যাল ফিল্মের পরিচালক তপন আহমেদ বলেন, খুবই গর্ব হচ্ছে এ উদ্যোগের সাথে জড়িত থাকতে পেরে। এটির নির্মাণে ক্রাউন মিউজিক সামান্যতম কার্পণ্যও করেনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্পন্সরদের উচিৎ ছিলো ক্রাউনের এই উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া। কিন্তু তারা এটা করেননি। কেনো করেননি সেটার জবাব তারাই দিতে পারবেন। হয়তো ওদের ভেতর জাতির জনক এবং তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তির ঘাটতি আছে।
বঙ্গমাতা ও শেখ রাসেলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা গানগুলোর মিউজিক্যাল ফিল্মের পরিচালক চলচ্চিত্রকার তাজুল ইসলাম বলেন, মিডিয়ায় আমার পদচারনা অনেক বছরের। শুরুর দিকেই আমি সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী’র সান্নিধ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং আমি জানি ওনার গানের কথা ও সুরের মাঝে কতোটা মায়াবী জাদুর পরশ থাকে। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, এই সময়ে শোয়েব চৌধুরীর সমকক্ষ একজন গীতিকার-সুরকারও বাংলাদেশে নেই। কারণ, তিনি একাধারে আধুনিক ও লোকগান লিখছেন – ইংরেজী ও হিন্দিতেও লিখছেন এবং সুর করছেন। এটা খুবই দুর্লভ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস গানগুলো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।
গানগুলো গীতিকার ও সুরকার সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বলেন, খুব অল্প সময়ের সিদ্ধান্ত এ তিনটি গান করেছি। এক্ষেত্রে অনেকেই আমায় উৎসাহ দিয়েছেন, তাদের কাছে আমি সত্যি কৃতজ্ঞ। আমি চাই ২০২০ সালে জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে যেন এ ধরনের মিউজিক্যাল ফিল্ম আরো হয়। আমরা ক্রাউন মিউজিক, এক্ষেত্রে স্পন্সরদের সহযোগিতা পেলে আরো ভালো কিছু করে দেখানো ইচ্ছে রাখছি। এছাড়া আমরা চাইছি, জাতির জনকের ওপর মিউজিক্যাল পূর্ণদীর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মাণের। এটা বেশ ব্যায়বহুল উদ্যোগ, তাই ক্রাউনের একার পক্ষে এটার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভারতের খ্যাতিমান চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল যে বায়োপিকটি নির্মাণ করছেন সে প্রসঙ্গে শোয়েব চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক শ্যাম বেনেগাল বানাবেন কেনো? তাকে বিশ্বে ক’জন মানুষ চেনে? ভারতে তো মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে নির্মিত ‘গান্ধী’ ছবিটি ভারতীয় কোনও পরিচালককে দিয়ে বানানো হয়নি। আমরা কেনো শ্যাম বেনেগালের কাছে গেলাম? কারা এধরনের সস্তা বুদ্ধি দিলো?
আমি মনে করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে হলিউড কাঁপানো নির্মাতা ষ্টিভেন স্পিলবারগ কিংবা রোমান পোলান্সকির মতো পরিচালকের প্রয়োজন ছিলো। এরা বঙ্গবন্ধু’র বায়োপিক নির্মাণ করলে গোটা বিশ্ববাসী এটা দেখবে।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ক্রাউন মিউজিক কোনও প্রকল্প হাতে নিয়েছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মাসুদ আনাম বলেন, হ্যা, আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা আছে। এক্ষেত্রে সরকার ও স্পন্সরদের সহযোগিতা চাইছি। কারণ, ওই প্রকল্পের কাজগুলো এখন থেকেই শুরু করা প্রয়োজন।