আকাশবার্তা ডেস্ক :
কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দলের দুই নেতা তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। জনসমাবেশে এই দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কথার তীব্র সমালোচনা করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন।
জানা গেছে, বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বেগম জিয়ার প্যারোল মুক্তি নিয়ে সমালোচনা করে বলেছেন, ‘যারা খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি চান তারা দালাল’।
এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্যারোল আইনগত অধিকার। না বুঝেই দলের কেউ কেউ প্যারোলের বিরোধিতা করছেন।
তিনি বলেন, আপসহীনতা মানে ধুকে ধুকে মরে যাওয়া নয়।
শুরু থেকেই প্যারোলে মুক্তির কথা বলে আসছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন। যিনি খালেদা জিয়ার মামলার অন্যতম আইনজীবী।
কিন্তু দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতারা খালেদার স্থায়ী জামিন চান। এ দাবিতেই তারা তৎপরতা চালাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরেই। বেগম জিয়া নিজেও স্থায়ী জামিন চান বলে তাদের দাবি। যে কারণে প্যারোল মুক্তির আলোচনা আসায় নাখোশ গয়েশ্বর চন্দ্রসহ একাধিক নেতা।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়া কারাগারে। তখন যদি কোন আইনজীবী তাকে গিয়ে বলেন আপনি কেন প্যারোলে যাবেন কিছুদিনের মধ্যেই আপনার জামিন হয়ে যাবে। তাহলে তিনি অবশ্যই চিন্তা করবেন যেহেতু আমার জামিন হয়ে যাচ্ছে আমি কেন প্যারোলে যাবো। এতে ম্যাডামের মধ্যে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, আইনজীবীদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
প্যারোলের সঙ্গে দোষ স্বীকার করার কোন সম্পর্ক নেই বলেও জানান এই নেতা ও আইনজীবী।
কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা সমঝোতা করে প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় তারা দালাল। খালেদা জিয়া কেন প্যারোলে মুক্তি পাবে, এটা হতে পার না।
এ বক্তব্যের প্রতিবাদে খন্দকার মাহবুুবের বক্তব্য, প্যারোল বিষয়ে না বুঝে যারা বক্তব্য দিচ্ছে তারা এর সম্পর্কে আসলে কিছু না জেনেই দিচ্ছে। এতে আসামিদের মধ্যে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। আমি যদি নিজেই বেঁচে না থাকি তাহলে রাজনীতি করবো কীভাবে।
এ ছাড়া আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলার সমালোচনাও করেন খন্দকার মাহবুব। বলেন, অনেক নেতা অনেক কিছু বলেন। কিন্তু তারা অনেক বাণিজ্যও করেন। আমি দালাল হতে রাজী আছি কিন্তু আমি যে বক্তব্য দিয়েছি সেই বক্তব্যে আমি বিশ্বাসী।