আকাশবার্তা ডেস্ক :
আলী মো. ইউসুফ। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি। এছাড়া হবিগঞ্জ লিটল ফ্লাওয়ার কেজি অ্যান্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকও ছিলেন তিনি। তার স্ত্রী চিশতিয়া বেগম (২৫) রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স।
এক বছরের মেয়ে ঈশাকে নিয়ে তিনি সেখানে থাকেন। জীবিকার কারণে স্বামী-স্ত্রী দুই জন দুই জেলায় থাকলেও মাসে অন্তত একবার স্ত্রীকে দেখতে যেতেন ইউসুফ।
সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে উদয়ন এক্সপ্রেসে ওঠেন তিনি। ট্রেনে ওঠার আগে স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, সকালে দেখা হবে।
কিন্তু শেষ দেখাটি এমন করুণ হতে হলো! পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে দেখা না হলেও দুপুর নাগাদ স্বামীর দেখা পান চিশতিয়া বেগম। তবে জীবন্ত স্বামীর নয়, পেলেন নিথর দেহের মানুষটির দেখা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ কেড়ে নেয় আলী মো. ইউসুফের জীবন। দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। খবর পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তার স্ত্রী চিশতিয়া।
লাশ নিতে স্বামীর চাচাতো ভাই উজ্জ্বল ও অন্য আত্মীয়ের সঙ্গে ভোরেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। কসবা পৌঁছানোর পর থেকে একটা কথাও বলেননি চিশতিয়া। ‘
শোকে পাথর হয়ে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে এক মনে তাকিয়ে থাকছেন। চোখের পানিও যেন শুকিয়ে গেছে তার। স্বামীর লাশ বুঝে পাওয়ার পর একবার শুধু ডুকরে কেঁদে ওঠেন। তারপর আবার নির্বাক।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের সাথে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।