আকাশবার্তা ডেস্ক :
পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ৪৫ টাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পার্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি জোরদার করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি)।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে বিভাগ ও জেলা পার্যায়ে ৪৫ টাকা মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি জোরদার করেছে টিসিবি। ঢাকা শহরের ৫০ টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এ পেঁয়াজ বিক্রয় চলছে। সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আকাশ ও সমুদ্র পথে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। ইতােমধ্যে আকাশ ও সমুদ্র পথে পেঁয়াজের চালানগুলাে দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এয়ার লাইন্সযােগে মিসর, তুরষ্ক, পাকিস্তান থেকে এসকল পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। সরকার পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে টিসিবি’র মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দেশী পেঁয়াজ (পাতাসহ) পর্যাপ্ত বাজারে এসেছে। পেঁয়াজের মূল্যও দ্রুত গতিতে কমছে। এখন পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মায়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। পাশাপাশি মিশর ও তুরস্ক থেকেও এলসি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়। সম্প্রতি মায়ানমারও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
এজন্য আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানি ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। স্থল ও নৌ বন্দরগুলোতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সে মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে।
সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিসিবি’র মাধ্যমে সরাসরি তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজ যোগে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রাত থেকেই কার্গো বিমানে করে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে।
এছাড়া সমুদ্র পথে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাংলাদেশের পথে রয়েছে, যা অতিশিগগির বড় পেঁয়াজের চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৌঁছানোর জন্য সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পেঁয়াজ দ্রুত পরিবহন নির্বিঘ্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে পেঁয়াজ আমদানি নির্বিঘ্ন করতে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৪টি টিম প্রতিদিন ঢাকা শহরের বাজারগুলো মনিটরিং অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতর ও প্রতিটি জেলা প্রশাসন জেলার বাজারগুলোতে মনিটরিং জোরদার করেছে। ঢাকার শ্যামবাজার ও চট্রগ্রামের খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।