আকাশবার্তা ডেস্ক :
সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে উপ-নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন ঠিক করা হয়েছে আগামী ১৩ জানুয়ারি। চলতি সপ্তাহেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১৩ জানুয়ারি ইলেকট্রনিক মেশিনে (ইভিএমে) ভোট করার প্রস্তাব তারা তৈরি করছেন। সেজন্য ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কে হবেন- তফসিলের আগে তাও চূড়ান্ত করা হবে
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর জানান, চট্টগ্রাম-৮ শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনের জন্য তাদের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের অনুমোদন নিয়ে আগামী সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আগামী কমিশন সভায় এ বিষয়ে প্রস্তাব তোলা হবে।
এদিকে, মইন উদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা মাঠ পর্যায়ে। বাদল ছিলেন বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি। ১৪ দলীয় জোটের মনোনয়নে তিনি এ আসন থেকে পর পর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উপনির্বাচনে যদি জাসদকেই আসনটি ছাড়া হয় সেক্ষেত্রে মনোনয়ন পেতে পারেন বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান।
কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক নেতা চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হতে চান। এর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
তন্মধ্যে, আবদুচ ছালামকে এর আগে একবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে জোটগত কারণে তা মইন উদ্দিন খান বাদলকে ছেড়ে দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে মহানগর আওয়ামী লীগের এ নেতার এক ধরনের দাবি রয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। বর্তমানে তাকে মোটামুটি প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদের অন্যতম ধরা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত একবারও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেননি।
এ বিষয়টি বিবেচনায় তিনিও মনোনয়ন পেতে পারেন এমন আশা তার সমর্থকদের মধ্যে। নুরুল ইসলাম বিএসসি এ আসনে একাধিকবার নির্বাচন করেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে। বিগত সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও একজন সম্ভাব্য প্রার্থী।
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির তৎকালীন সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। এ আসনে এবারও তিনিই ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন।
আসনটিতে বারবার নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন বিএনপির প্রবীণ নেতা এম মোরশেদ খান। তিনি মন্ত্রীও হয়েছিলেন। অতি সম্প্রতি দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে সে পদত্যাগপত্র এখনও গৃহীত হয়নি বলে শোনা যায়।
আবু সুফিয়ান অনুসারীরা বলছেন, যেহেতু মোরশেদ খান পদত্যাগ করেছেন সেহেতু তার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু দলের কেন্দ্র থেকে তাকে আবারও প্রার্থী হওয়ার অফার দেয়া হয়েছে বলে চাউর রয়েছে। কিন্তু তিনি নিজেই আর রাজনীতিতে আগ্রহী নন।