বিনোদন ডেস্ক :
চলচ্চিত্রে শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রতি বছর ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রদান করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। গত ৫ নভেম্বর ২০১৭ ও ২০১৮ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে আজীবন সন্মাননা পাচ্ছেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক এম এ আলমগীর এবং অভিনেতা প্রবীর মিত্র।
এর আগে ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’ ক্যাটাগরিতে সাতবার এবং ‘শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা’ ক্যাটাগরিতে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন আলমগীর। এবার আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন তিনি। অনুভূতি জানতে চাইলে জনপ্রিয় এ চিত্রনায়ক বলেন, ‘ভালো লাগছে।
আসলে আমি অভিনয় করছি ৪৭ বছর ধরে। আমার তো লাইফ এখনো শেষ হয়নি, অ্যাচিভমেন্ট কি হবে? অ্যাচিভমেন্ট তো আরো বাকি আছে। তারপরও আমি আনন্দিত, ভালো লাগছে। আমি খুব ছোটখাটো একজন অভিনেতা। অভিনয় করার চেষ্টা করেছি কিন্তু ভালো অভিনয় করতে পারিনি। এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও করব।’
২০১৮ সালে আজীবন সম্মাননা দেয়া হচ্ছে অভিনেতা প্রবীর মিত্রকে। তার প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ‘প্রবীর মিত্র খুবই শক্তিমান অভিনেতা। প্রবীর আমার খুব কাছের একজন বন্ধু। ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে ও আপনি করে কথা বলে। আর সবাইকে ওকে প্রবীর দা বলে ডাকে। শুধু আমার সঙ্গে প্রবীর দার তুমি সম্পর্ক। আমার সঙ্গে ওকে সম্মাননা দেয়া হচ্ছে এটা সত্যি আনন্দের। বাকি সবার জন্যও ভালো লাগছে।’
আলাপের শেষ দিকে পাঠকের উদ্দেশ্যে এ অভিনেতা বলেন, ‘আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট এখনো হয়নি। আমি আরো অনেকদিন অভিনয় করতে চাই, আরো অভিনয় করব। তারপর দেখি কিছু অ্যাচিভমেন্ট করতে পারি কিনা। আমি মনে করি, এ সম্মানা দেয়া হয়েছে আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্যই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
১৯৭৩ সালে আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘আমার জন্মভূমি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে অভিষেক হয় আলমগীরের। ১৯৭৮ সালে ‘জিঞ্জির’ চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও সোহেল রানার সঙ্গে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। আলমগীর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘নিষ্পাপ’।
১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় এটি। ১৯৫০ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন চিত্রনায়ক আলমগীর। তার পিতা কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া ঢালিউডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর একজন অন্যতম প্রযোজক।