সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়

লাখ টাকায় ছাড়া পেলেন দুই মাদক কারবারি

আকাশবার্তা ডেস্ক :

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহর ফাড়িঁর ইনচার্জ মো. সেলিম এর বিরুদ্ধে লাখ টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত দুই মাদক বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার, সেখানে ভৈরব শহর ফাড়িঁ ইনচার্জের এমন কর্মকাণ্ডে রীতিমত আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার সময় শহরের পঞ্চবটি পুকুরপাড় এলাকার মাদকের আড়ৎধার ও একাধীক মাদক মামলার আসামি মাইগ্যা আলমের বাড়িতে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিম ও এটি এস আই আরিফসহ সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালায়। এসময় আলমের বাড়িতে আলম ও আরেক চিহ্নিত মাদক কারবারি সুমীসহ ফারুক (৩০), আলাদিন (১৯), আলিফ (২২) ও রোকন (২০) নামে আরো চারজনকে আটক করা হয়।

তবে আটকৃত সুমী এবং আলমের দেহ তল্লাশী করে কোনো প্রকার মাদকদ্রব্য পায়নি পুলিশ। এসময় মাদক না পেয়েও সুমী ও আলমকে নিয়ে যেতে চাইলে আটককৃত মাদক কারবারি ও পুলিশের মাঝে দরদাম চলতে থাকে। সুমী ও আলমকে ছেড়ে দেবে এবং আটকৃত অপর চার জনকে ৩৪ ধারায় মামলা দেওয়া হবে এমন শর্তে একলাখ টাকা রফাদফায় রাজি হন শহর পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ মো. সেলিম।

পরে সুমী ও আলমকে ছেড়ে দিয়ে আটককৃত চারজনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কথামত এক লাখ টাকার মধ্যে সুমী ও আলমের কাছ থেকে রাতেই ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। আর বাকি টাকা আজ (বুধবার) দুপুরে দেওয়ার কথা ছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ আটককৃত চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এমন খবর সুমি ও আলমের কাছে পৌঁছলে তারা শর্ত ভঙ্গের ক্ষোভে রফাদফার পুরো ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুমি জানান, আমি ও আলমকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার ও গ্রেপ্তার হওয়া বাকি চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান দিতে আরো ৫০ হাজার মোট ১ লাখ টাকার চুক্তি করা হয় এবং রাতেই ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় পুলিশ। কিন্তু এখন কেন পুলিশ ঐ চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিবে?

অপর মাদক কারবারি মাইগ্যা আলম জানান, আমাদের কাছে কোনো মাদক পায়নি। তারপরেও আমরা যেহেতু আগে মাদক ব্যবসা করতাম তাই আমাদেরকে চালান দিবে বলে হুমকি দেয় পুলিশ। পরে আমাকে ও সুমিকে ছেড়ে দিতে নগদ ৫০ হাজার টাকা নেয় পুলিশ এবং বাকি চারজনকে ৩৪ ধারায় চালান দিতে আরো ৫০ হাজার টাকা আজকে দুপুরে দেওয়ার কথা।

এব্যাপারে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সেলিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়াও ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না জানিয়ে শেষ সুযোগ চেয়ে উৎকোচ দিয়ে সাংবাদিকদের মেনেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি।

এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিন জানান, টাকা নিয়ে আসামি ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে শহরফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ৩৫ হাজার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। এব্যাপারে ওসি সেলিমের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে আটককৃত চারজনকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট এর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হলেও পুরো ঘটনাটি অবহিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করে আসামিদেরকে ভৈরব থানায় হস্থান্তর করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরেও কেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট লুবনা ফারজানা বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি আটক করেছে। তাই এবিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31