আকাশবার্তা ডেস্ক :
দলের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে আবারও বড় পদে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে জাতীয় পার্টিতে (জাপা)। মূলত আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় দলটির কাউন্সিলকে ঘিরে আগে থেকে উঠেছে এই গুঞ্জন।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র বলছে, কাউন্সিলের মাধ্যমে দলে নিজের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের নানা কৌশলী পদক্ষেপ নেয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যেতে পারে। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে ‘চেয়ারম্যান’ এবং জিএম কাদেরকে ‘নির্বাহী চেয়ারম্যান’ করার ফর্মুলায় এখন এগুচ্ছে জাপা।
শেষ পর্যন্ত এই ফর্মুলা বাস্তবায়ন হলে সোয়া তিন মাস আগের, অর্থাৎ গত ৭ সেপ্টেম্বর রওশন ও কাদেরকে ঘিরে সৃষ্ট দুটি বলয়ের মধ্যে হওয়া সমঝোতা ভেঙে যাবে বলে মনে করছেন দলের সিংহভাগ নেতা-কর্মী।
এই গুঞ্জনে শুধু চেয়ারম্যান পদকে ঘিরেই আলোচনা থেমে নেই। নতুন আলোচনায় রয়েছে দলের মহাসচিব পদকে ঘিরেও।
কাউন্সিলে মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। বর্তমান মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা স্বপদে বহাল থাকতে পারেন, এমন আলোচনা দিনদিন কমে আসছে। এই পদে নতুন করে জোর আলোচনায় রয়েছেন গোলাম মসিহ, তিনি সৌদিআরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত।
এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন দুইজন সংসদ সদস্য, তারা হলেন জাপার জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নু। কারও কারও মুখে সাবেক দুই মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর নামও ধ্বনিত হচ্ছে।
এদিকে মহাসচিব পদে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মুখে অন্যদের নাম বেশি শোনা গেলেও দলটির মূল নেতারা বলছেন গোলাম মসিহর কথা।
‘রওশন চেয়ারম্যান, জিএম কাদের নির্বাহী চেয়ারম্যান’- এই ফর্মুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা জাপার একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘কাউন্সিলের মাধ্যমেই রওশন এরশাদ চেয়ারম্যান ও জিএম কাদের নির্বাহী চেয়ারম্যান হচ্ছেন এটা এখন পর্যন্ত ঠিকঠাক আছে।’
জাপার গঠনতন্ত্রে ‘নির্বাহী চেয়ারম্যান’ পদ না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে পদটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, এই ফর্মুলার বিষয়ে জিএম কাদেরও অবহিত। কাউন্সিলের মাধ্যমেও চেয়ারম্যান পদে নিজে বহাল থাকতে গত কয়েকদিন ধরে তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। তবে বহাল থাকতে পারার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন তিনি।
সূত্রের দাবি, নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে থাকার প্রস্তাব জিএম কাদের প্রথমে সরাসরি নাকচ করলেও সময়ের ব্যবধানে আস্তে-আস্তে সরে এসেছেন। তবে এ বিষয়ে জিএম কাদের সরাসরি কোন মন্তব্য করছেন না।