আকাশবার্তা ডেস্ক :
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সাবেক কামারখালী, বর্তমানে আড়পাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আড়পাড়া গ্রামের মৃত নাদের হোসেন মিয়ার ছেলে মৃত আবুল হোসেন মিয়া ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ না হয়েও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ভুল তথ্য দিয়ে তৎকালীন উপজেলা কমান্ডারকে ম্যানেজ করে আবুল হোসেনের পরিবার আবুল হোসেনকে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সনদপত্র যোগাড় করেন। সেই সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে যে সনদ গ্রহণ করেন যার সনদপত্র নম্বর-ম-১৮৮৫৭২, সাময়িক সনদপত্র প্রদানের তারিখ ২০/ ০১/ ২০১৩।
উপজেলা কমান্ডার কর্তৃক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, আবুল হোসেন ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। অথচ অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবুল হোসেন মিয়া ১৯৭২ সালে রাজবাড়ী জেলার বসন্তপুর গ্রামের ফাতেমা বেগমকে বিয়ে করেন। আবুল হোসেন মিয়ার দম্পতির ১ম সন্তান পারুল খাতুন ১৯৭৪ সালে, ২য় সন্তান ঝরনা খাতুন ১৯৭৭, তাদের সর্বশেষ সন্তান মো. বিল্লাল হোসেন ১৯৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বিল্লালের ভোটার তালিকায় যার নং- ২৯০৪৮২০৮৭২২৪, জন্ম তারিখ- ০২/ ০১/ ১৯৮০ সাল।
এছাড়া আবুল হোসেন মিয়া যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সাল হতে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট প্রদান করেছেন। এরপর তিনি ১৯৮৬ সালে মারা যান। তথ্যমতে, আবুল হোসেন মিয়া ১৯৭১ সালের যুদ্ধে মারা যাননি এবং তার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যার নং- মুবিম/ প্রঃ ৩/ মুক্তিযোদ্ধা/ ২০০৩/ ৪৭৯ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল ও সঠিকভাবে প্রদানের মাধ্যমে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এখানে উল্লেখ করা হয় যে, এই তালিকায় যদি কোনো অমুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তাহা প্রমাণিত হয় এমনটি হইলে ঐ মুক্তিযোদ্ধার নাম বাতিল করা হইবে। অথচ উল্লেখিত গেজেটেই আবুল হোসেনের নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তারই সূত্র ধরে আবুল হোসেনের স্ত্রী বর্তমানে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খুরশিদ আলমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, গরিব মানুষ একটু সুবিধা পাবে মনে করে তখন প্রত্যয়নপত্রে লিখে দিয়েছিলাম যে, ‘আবুল হোসেন ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করতে করতে মারা গেছেন।’ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা।
সূত্র : আমার সংবাদ/আকাশবার্তা।