আকাশবার্তা ডেস্ক :
আম বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামাতের ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। রোববার আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে চলতি বছরের বিশ্ব ইজতেমা। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়।
দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা এবার দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। আর মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা গত ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নেন।
দ্বিতীয় পর্বের সমন্বয়ক হাজী মুনির হোসেন জানান, গত সোমবার মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীদের কাছ থেকে মাঠ বুঝে পাওয়ার পর থেকেই দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতি শুরু হয়। বুধবার থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে লোকজন ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকার মুসল্লীদের সুবিধার্থে ইজতেমা মাঠে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। ১৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ২য় পর্বেও প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্যালন খাবার পানি ও ওজু-গোসলের পানি সরবরাহ করা হবে।
৮ হাজারের বেশি মুসল্লী একসঙ্গে টয়লেট ব্যবহার করতে পারবে। দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা এ পর্বেও সিটি কর্পোরেশনের সবধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বিতীয় পর্বেও প্রথম পর্বের মতো নিরাপত্তাব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
জিএমপি কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, গত পর্বের চেয়ে এ পর্বের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করতে প্রস্তুত আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খিত্তাওয়ারি মুসল্লীদের অবস্থান : মিরপুর (খিত্তা-১, ২), সাভার (৩-৪), টঙ্গী (৫), উত্তরা (৬ ও ৭), কাকরাইল (৮-১৪), মোহাম্মদপুর (১৫), যাত্রাবাড়ী (১৬), ডেমড়া (১৭), কেরানীগঞ্জ (১৮-১৯), ধামরাই (২০), নবাবগঞ্জ/দোহার (২১), মানিকগঞ্জ (২২), টাঙ্গাইল (২৩), নারায়ণগঞ্জ (২৪), নেত্রকোনা (২৫), জামালপুর (২৬), ময়মনসিংহ (২৭), কিশোরগঞ্জ (২৮), শেরপুর (২৯), গাজীপুর (৩০), বগুড়া (৩১)।
নরসিংদী (৩২), নওগাঁ (৩৩), রাজশাহী (৩৪), নাটোর (৩৫), সিলেট (৩৮), সুনামগঞ্জ (৩৯), হবিগঞ্জ (৪০), মৌলভীবাজার (৪১), চাঁপাইনবাবঞ্জ (৪২), জয়পুরহাট (৪৩), মুন্সীগঞ্জ (৪৪), মাদারীপুর (৪৫), শরীয়তপুর (৪৬), রাজবাড়ী (৪৭), ফরিদপুর (৪৮), গোপালগঞ্জ (৪৯), পঞ্চগড় (৫০), নীলফামারী (৫১), লালমনিরহাট (৫২), গাইবান্ধা (৫৩), কুড়িগ্রাম (৫৪), ঠাকুরগাঁও (৫৫), রংপুর (৫৬), দিনাজপুর (৫৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (৫৮), চাঁদপুর (৫৯), খাগড়াছড়ি (৬০)।
ফেনী (৬১), রাঙ্গামাটি (৬২), বান্দরবান (৬৩), লক্ষ্মীপুর (৬৪), নোয়াখালী (৬৫), কুমিল্লা (৬৬), কক্সবাজার (৬৭), চট্টগ্রাম (৬৮), চুয়াডাঙ্গা (৬৯), কুষ্টিয়া (৭০), খুলনা (৭১), যশোর (৭২), ঝালকাঠি (৭৩), পটুয়াখালী (৭৪), বরিশাল (৭৫), ভোলা (৭৬), বরগুনা (৭৭) ও পিরোজপুর (৭৮)।
তুরাগ নদের পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত খিত্তাগুলো হল- পাবনা (৩৬), সিরাজগঞ্জ (৩৭), মাগুড়া (৭৯), সাতক্ষীরা (৮০), নড়াইল (৮১), ঝিনাইদহ (৮২), বাগেরহাট (৮৩) ও মেহেরপুর (৮৪)। এ ছাড়াও ৮৫ ও ৮৬ নম্বর খিত্তা ও তুরাগ নদের পশ্চিম পাড়ে ৮৭নং খিত্তা সংরক্ষিত খিত্তা হিসেবে রাখা হয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার পথে গাজীপুরে ট্রেন ও কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন দুজন।
গত বুধবার রাতে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত হন তারা। নিহতরা হলেন— গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার টেংরাকান্দি এলাকার মো. গুলজার (৪৫) ও নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার বীর বাগদে এলাকার আব্দুর রহমান (৫৫)। টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গুলজার ও তার সঙ্গীরা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেন থেকে টঙ্গী স্টেশনে নামেন তারা। রেললাইন পার হওয়ার সময় কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর ট্রেনের ধাক্কায় আহত হন গুলজার। সঙ্গীরা তাকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এদিকে গাজীপুর সিটি পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মনজুর রহমান বলেন, আব্দুর রহমান বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে টঙ্গীর মন্নুগড় এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আব্দুর রহমান।